ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বর্জ্য ব্যবহার করে ৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি প্রকল্প নিয়ে চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। বৈঠকে প্রকল্পটির সম্ভাব্য বিনিয়োগ কাঠামো, প্রযুক্তিগত দিক এবং বাস্তবায়নের রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং চীনভিত্তিক ঝেজিয়াং ওয়েইমিং এনভায়রনমেন্টাল প্রটেকশন কোম্পানি লিমিটেডের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বৈঠকে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও কেন্দ্র পরিচালনায় ব্যবহৃত প্রযুক্তি, সম্ভাব্য বিনিয়োগ মডেল এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপ নিয়ে একটি ব্রিফিং উপস্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে প্রকল্পটি এগিয়ে নিতে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও দুই পক্ষ মতবিনিময় করে।
চীনা প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে পরিবেশ সংরক্ষণ গ্রুপের চেয়ারম্যান চেং উলিয়াং, সভাপতির সহকারী উ জিয়ান এবং বিনিয়োগ বিভাগের ব্যবস্থাপক হুয়াং ওয়েইফেং বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের পক্ষে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানসহ মন্ত্রণালয় ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
এর আগে গত ১২ জুলাই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পৃথক দুটি প্রকল্প নিয়ে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই বৈঠকে প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মাতুয়াইলে দক্ষিণ কোরিয়ার বি অ্যান্ড এফ কোম্পানির মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। সেখানে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টন বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটিতে বছরে প্রায় ৮১ হাজার মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।
অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আমিনবাজারে চীনের সিএমইসি গ্রুপের বিনিয়োগে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি থেকে ২০২৮ সালের আগস্টের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ঢাকার বিপুল পরিমাণ বর্জ্য পরিবেশসম্মতভাবে ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি তা থেকে বিদ্যুৎ ও অন্যান্য ব্যবহারযোগ্য সম্পদ উৎপাদনের উদ্যোগের অংশ হিসেবেই নতুন ৪৫ মেগাওয়াট প্রকল্পটি নিয়ে চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা এগোচ্ছে। তবে সোমবারের বৈঠকের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি এখনো বিনিয়োগ কাঠামো, কারিগরি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।