জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর যাত্রীবাহী বাসের ভাড়া সমন্বয়ের প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। প্রস্তাব অনুযায়ী, দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটারে ২০ পয়সা এবং রাজধানীসহ শহরাঞ্চলের বাসে ১৮ পয়সা ভাড়া বাড়তে পারে। তবে এই হার এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বনানীতে বিআরটিএর প্রধান কার্যালয়ে পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অংশগ্রহণে ভাড়া সমন্বয় নিয়ে বৈঠক হয়। বৈঠকের পর প্রস্তাবটি সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারি হলে নতুন ভাড়া কার্যকর হবে।
রোববার রাতে সরকার ডিজেলসহ চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ায়। নতুন দরে ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা হয়েছে। একই সঙ্গে কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা প্রতি লিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম সোমবার থেকে কার্যকর হয়েছে।
সাধারণত বাসভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে জ্বালানি ছাড়াও গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রাংশ, শ্রমিকের মজুরি এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বিবেচনা করা হয়। তবে এবারের প্রস্তাবে মূলত ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিআরটিএ সূত্রের হিসাবে, ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে এক টাকা বাড়লে বাসের পরিচালন ব্যয়ের ওপর এর প্রভাব বিবেচনায় কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া প্রায় এক পয়সা বাড়তে পারে। সেই হিসাবে ডিজেলের দাম ২০ টাকা বৃদ্ধির পর দূরপাল্লায় ২০ পয়সা এবং শহরাঞ্চলে ১৮ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে।
বর্তমানে দূরপাল্লার ৫২ আসনের বাসে প্রতি কিলোমিটারের নির্ধারিত ভাড়া ২ টাকা ২৩ পয়সা। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৫৩ পয়সা। গত এপ্রিলেও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির পর বাসভাড়া সমন্বয় করা হয়েছিল।
পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকে দ্রুত নতুন ভাড়া নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারির অনুরোধ জানানো হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, সিদ্ধান্তে বিলম্ব হলে বাড়তি জ্বালানি ব্যয়ের কারণে বিভিন্ন রুটে বিচ্ছিন্নভাবে ভাড়া বাড়ানোর প্রবণতা দেখা দিতে পারে।
তবে এসি বাস, মালবাহী যানবাহনসহ কয়েক ধরনের পরিবহনের ভাড়া সরকারিভাবে নির্ধারণ করা হয় না। এসব পরিবহনের ভাড়া সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষ নির্ধারণ করে থাকে।
বিআরটিএর প্রস্তাবিত ১৮ ও ২০ পয়সা বৃদ্ধির হারই শেষ পর্যন্ত কার্যকর হবে কি না, তা এখন সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে প্রস্তাবিত হার কিছুটা পরিবর্তিত হওয়ারও সুযোগ রয়েছে।