ঢাকা    সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

আশুলিয়ায় কারখানায় আগুনের পর বন্ধ ৪ কারখানা

আশুলিয়ায় কারখানায় আগুনের পর বন্ধ ৪ কারখানা
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

সাভারের আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় এস সুহী ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী লরিতে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১৬ জন। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে শিল্পপার্কটির এফএনএফ ইউটিলিটি বিল্ডিংসংলগ্ন এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও শিখা দেখা যায়।

ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, কারখানা প্রাঙ্গণের দেয়ালের পাশে সারিবদ্ধভাবে রাখা গ্যাস সিলিন্ডারবাহী লরিগুলোর একটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রাথমিকভাবে ৪ নম্বর লরিতে প্রথম বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে আগুন আশপাশের লরিতে ছড়িয়ে পড়ে।

জিরাবো ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শাহাবুদ্দিন জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটিতে তিতাস গ্যাসের সংযোগ থাকলেও পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় বিকল্প ব্যবস্থায় সিলিন্ডারবাহী লরি থেকে গ্যাস নেওয়া হতো বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে।

ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সেখানে থাকা কয়েকটি সিলিন্ডার মেয়াদোত্তীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। অতিরিক্ত চাপ কিংবা কারিগরি ত্রুটির কারণে বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিস্ফোরণের তীব্রতায় লরির বিভিন্ন অংশ ও সিলিন্ডারের খণ্ড অনেক দূরে ছিটকে পড়ে। একটি অংশ পাশের ১০ তলা ভবনের ছাদেও গিয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের পর সিলিন্ডারের মূল গ্যাস সরবরাহ লাইনেও আগুন ধরে যায়।

খবর পেয়ে জিরাবো ও ডিইপিজেড ফায়ার স্টেশনের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। রাত ১১টা ৪৪ মিনিটে উদ্ধার অভিযান শেষ করা হয়।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলামের তথ্য অনুযায়ী, লরির ভেতর থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলের কিছুটা দূরে আরও এক নারীর মরদেহ পাওয়া যায়। গুরুতর আহত তিনজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে একজনের মৃত্যু হয়। এতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় সাতজনে।

নিহতদের মধ্যে মোছাম্মত জয়নব বেগম (৫৫) নামে এক নারী রয়েছেন। বিস্ফোরণের সময় সিলিন্ডারের একটি অংশ ছিটকে তার মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুলবুল নামে আরও একজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। নিহত কয়েকজনের মরদেহ মারাত্মকভাবে দগ্ধ হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তাদের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে।

দুর্ঘটনার পর সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) এস সুহী ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের চারটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। এগুলো হলো প্রীতি কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেড, প্রীতি কম্পোজিট গার্মেন্টস লিমিটেড, অক্সফোর্ড কালারস লিমিটেড এবং এস সুহী ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক লিমিটেড।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় তিন হাজার শ্রমিক কাজ করেন। সোমবারের জন্য চারটি কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

কারখানার কোনো শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে আগুন মূল উৎপাদন ভবনের পরিবর্তে পার্কিং এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকায় কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে আরও হতাহতের আশঙ্কা কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারখানা পুনরায় চালু হলে কর্মীদের উপস্থিতির ভিত্তিতে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

বিস্ফোরণের কারণে আশপাশের কয়েকটি ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কোনো কোনো ভবনের কাচ ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি ছাদেও ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছেন তারা।

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, কারখানা প্রাঙ্গণে সাত থেকে আটটি কাভার্ড ভ্যানে বিপুলসংখ্যক গ্যাস সিলিন্ডার ছিল। আগুন লাগার পর সিলিন্ডার থেকে বের হওয়া গ্যাস পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। আগুন যাতে মূল কারখানা ভবন ও আশপাশের স্থাপনায় ছড়িয়ে না পড়ে, সেদিকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেন অগ্নিনির্বাপণকর্মীরা।

ঘটনার প্রকৃত কারণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের বিভাগীয় তদন্ত কমিটি করেছে ফায়ার সার্ভিস। একজন সহকারী পরিচালককে কমিটির সভাপতি এবং একজন কমান্ডারকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও একজন পরিদর্শক কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

ট্যাগ : অগ্নিকাণ্ড আশুলিয়া

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আশুলিয়ায় কারখানায় আগুনের পর বন্ধ ৪ কারখানা

প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সাভারের আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় এস সুহী ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী লরিতে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১৬ জন। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে শিল্পপার্কটির এফএনএফ ইউটিলিটি বিল্ডিংসংলগ্ন এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও শিখা দেখা যায়।

ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, কারখানা প্রাঙ্গণের দেয়ালের পাশে সারিবদ্ধভাবে রাখা গ্যাস সিলিন্ডারবাহী লরিগুলোর একটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রাথমিকভাবে ৪ নম্বর লরিতে প্রথম বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে আগুন আশপাশের লরিতে ছড়িয়ে পড়ে।

জিরাবো ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শাহাবুদ্দিন জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটিতে তিতাস গ্যাসের সংযোগ থাকলেও পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় বিকল্প ব্যবস্থায় সিলিন্ডারবাহী লরি থেকে গ্যাস নেওয়া হতো বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে।

ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সেখানে থাকা কয়েকটি সিলিন্ডার মেয়াদোত্তীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। অতিরিক্ত চাপ কিংবা কারিগরি ত্রুটির কারণে বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিস্ফোরণের তীব্রতায় লরির বিভিন্ন অংশ ও সিলিন্ডারের খণ্ড অনেক দূরে ছিটকে পড়ে। একটি অংশ পাশের ১০ তলা ভবনের ছাদেও গিয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের পর সিলিন্ডারের মূল গ্যাস সরবরাহ লাইনেও আগুন ধরে যায়।

খবর পেয়ে জিরাবো ও ডিইপিজেড ফায়ার স্টেশনের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। রাত ১১টা ৪৪ মিনিটে উদ্ধার অভিযান শেষ করা হয়।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলামের তথ্য অনুযায়ী, লরির ভেতর থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলের কিছুটা দূরে আরও এক নারীর মরদেহ পাওয়া যায়। গুরুতর আহত তিনজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে একজনের মৃত্যু হয়। এতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় সাতজনে।

নিহতদের মধ্যে মোছাম্মত জয়নব বেগম (৫৫) নামে এক নারী রয়েছেন। বিস্ফোরণের সময় সিলিন্ডারের একটি অংশ ছিটকে তার মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুলবুল নামে আরও একজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। নিহত কয়েকজনের মরদেহ মারাত্মকভাবে দগ্ধ হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তাদের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে।

দুর্ঘটনার পর সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) এস সুহী ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের চারটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। এগুলো হলো প্রীতি কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেড, প্রীতি কম্পোজিট গার্মেন্টস লিমিটেড, অক্সফোর্ড কালারস লিমিটেড এবং এস সুহী ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক লিমিটেড।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় তিন হাজার শ্রমিক কাজ করেন। সোমবারের জন্য চারটি কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

কারখানার কোনো শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে আগুন মূল উৎপাদন ভবনের পরিবর্তে পার্কিং এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকায় কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে আরও হতাহতের আশঙ্কা কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারখানা পুনরায় চালু হলে কর্মীদের উপস্থিতির ভিত্তিতে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

বিস্ফোরণের কারণে আশপাশের কয়েকটি ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কোনো কোনো ভবনের কাচ ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি ছাদেও ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছেন তারা।

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, কারখানা প্রাঙ্গণে সাত থেকে আটটি কাভার্ড ভ্যানে বিপুলসংখ্যক গ্যাস সিলিন্ডার ছিল। আগুন লাগার পর সিলিন্ডার থেকে বের হওয়া গ্যাস পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। আগুন যাতে মূল কারখানা ভবন ও আশপাশের স্থাপনায় ছড়িয়ে না পড়ে, সেদিকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেন অগ্নিনির্বাপণকর্মীরা।

ঘটনার প্রকৃত কারণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের বিভাগীয় তদন্ত কমিটি করেছে ফায়ার সার্ভিস। একজন সহকারী পরিচালককে কমিটির সভাপতি এবং একজন কমান্ডারকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও একজন পরিদর্শক কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ