ঢাকা    সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

টাঙ্গাইলে নির্মীয়মাণ সেতুর ফুটপাতে রডের বদলে বাঁশ

টাঙ্গাইলে নির্মীয়মাণ সেতুর ফুটপাতে রডের বদলে বাঁশ
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাবে নিয়মবহির্ভূতভাবে বাঁশ ও কাঠ ব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা প্রকৌশলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঢালাইয়ের অংশ ভেঙে বিষয়টি পরীক্ষা করেন।

এর আগে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া এলাকায় মরাগাঙ্গী নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুটির ফুটপাতের স্ল্যাব ঢালাইয়ের কাজ চলার সময় বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। পরে তাদের ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০ দশমিক ৬ মিটার দীর্ঘ পিএসসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণ করছে মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ (জেবি)।

১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে। প্রাথমিকভাবে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্মাণ শেষ করার কথা থাকলেও পরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। বর্তমানে সেতুটির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রোববার রাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরির সময় রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই করছিলেন। বিষয়টি দেখে তারা কাজে বাধা দিলে কিছু সময়ের জন্য নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হয়। তবে স্থানীয়রা চলে যাওয়ার পর আবার কাজ শুরু করে ঢালাই শেষ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই তারা বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ জানিয়ে আসছেন। যেসব অংশে নিম্নমানের কাজ হয়েছে, সেগুলো ভেঙে নকশা ও কারিগরি নির্দেশনা অনুযায়ী পুনর্নির্মাণ এবং অনিয়মের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে ঠিকাদার এসএম জাহাঙ্গীর অভিযোগের ব্যাখ্যায় বলেন, ফুটপাতের স্ল্যাবের নিচে স্থায়ী শাটারিং হিসেবে বাঁশ বা কাঠ ব্যবহার করা যায়। তার দাবি, সেখানে রডের খাঁচা ও পলিথিন ব্যবহারের পর ঢালাই করা হয়েছে। স্থানীয় কিছু ব্যক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শাটারিংয়ে ব্যবহৃত বাঁশের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান জানিয়েছেন, কাজটি নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী হয়নি। তার ভাষ্য, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই রাতে ঢালাই করেছে। নিয়ম অনুযায়ী আলাদাভাবে স্ল্যাব তৈরি করে পরে ফুটপাতের নির্ধারিত স্থানে বসানোর কথা ছিল। কিন্তু সেটি না করে সরাসরি বাঁশ ও কাঠ দিয়ে শাটারিং তৈরি করে সীমিত পরিমাণ রড ব্যবহার করে ঢালাই করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, যেসব স্থানে নিম্নমানের কাজ পাওয়া গেছে, সেসব অংশ ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। নিয়ম মেনে নতুন করে নির্মাণ করা হবে এবং ঘটনার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর সরেজমিনে সেতুর কাজ পরিদর্শন করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে দ্রুত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তের ফল অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ট্যাগ : টাঙ্গাইল সেতু নির্মাণ

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


টাঙ্গাইলে নির্মীয়মাণ সেতুর ফুটপাতে রডের বদলে বাঁশ

প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাবে নিয়মবহির্ভূতভাবে বাঁশ ও কাঠ ব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা প্রকৌশলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঢালাইয়ের অংশ ভেঙে বিষয়টি পরীক্ষা করেন।

এর আগে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া এলাকায় মরাগাঙ্গী নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুটির ফুটপাতের স্ল্যাব ঢালাইয়ের কাজ চলার সময় বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। পরে তাদের ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০ দশমিক ৬ মিটার দীর্ঘ পিএসসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণ করছে মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ (জেবি)।

১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে। প্রাথমিকভাবে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্মাণ শেষ করার কথা থাকলেও পরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। বর্তমানে সেতুটির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রোববার রাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরির সময় রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই করছিলেন। বিষয়টি দেখে তারা কাজে বাধা দিলে কিছু সময়ের জন্য নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হয়। তবে স্থানীয়রা চলে যাওয়ার পর আবার কাজ শুরু করে ঢালাই শেষ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই তারা বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ জানিয়ে আসছেন। যেসব অংশে নিম্নমানের কাজ হয়েছে, সেগুলো ভেঙে নকশা ও কারিগরি নির্দেশনা অনুযায়ী পুনর্নির্মাণ এবং অনিয়মের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে ঠিকাদার এসএম জাহাঙ্গীর অভিযোগের ব্যাখ্যায় বলেন, ফুটপাতের স্ল্যাবের নিচে স্থায়ী শাটারিং হিসেবে বাঁশ বা কাঠ ব্যবহার করা যায়। তার দাবি, সেখানে রডের খাঁচা ও পলিথিন ব্যবহারের পর ঢালাই করা হয়েছে। স্থানীয় কিছু ব্যক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শাটারিংয়ে ব্যবহৃত বাঁশের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান জানিয়েছেন, কাজটি নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী হয়নি। তার ভাষ্য, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই রাতে ঢালাই করেছে। নিয়ম অনুযায়ী আলাদাভাবে স্ল্যাব তৈরি করে পরে ফুটপাতের নির্ধারিত স্থানে বসানোর কথা ছিল। কিন্তু সেটি না করে সরাসরি বাঁশ ও কাঠ দিয়ে শাটারিং তৈরি করে সীমিত পরিমাণ রড ব্যবহার করে ঢালাই করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, যেসব স্থানে নিম্নমানের কাজ পাওয়া গেছে, সেসব অংশ ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। নিয়ম মেনে নতুন করে নির্মাণ করা হবে এবং ঘটনার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর সরেজমিনে সেতুর কাজ পরিদর্শন করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে দ্রুত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তের ফল অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ