জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবিতে রাজধানীর মহাখালী এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তর। কর্মসূচি থেকে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর পাশাপাশি নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের দাবি জানানো হয়।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে মহাখালী রেলগেটসংলগ্ন কলেরা হাসপাতালের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখান থেকে একটি মিছিল বের হয়ে নাবিস্কো এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
এর আগের দিন সরকার ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ায়। নতুন মূল্য অনুযায়ী ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা প্রতি লিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সরকারের জ্বালানি নীতির সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, জ্বালানি সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় এবং দেশের অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকট নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জুবায়ের। তার অভিযোগ, বিরোধী দল সংসদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার উদ্যোগ নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই পাম্পগুলোতে সংকট কমে যায়। এ ঘটনা উল্লেখ করে তিনি কৃত্রিমভাবে সংকট তৈরির অভিযোগ করেন। তবে এ দাবির পক্ষে কর্মসূচিতে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
জ্বালানি সংকটের প্রভাবে দ্রব্যমূল্য, কৃষি এবং শিল্প খাতে নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলেও দাবি করেন জামায়াতের এই নেতা। তার ভাষ্য, সংকট মোকাবিলায় বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হলেও সরকার তাতে সাড়া দেয়নি।
অন্যদিকে সরকার বলছে, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট, বিপিসির আর্থিক চাপ এবং জ্বালানি পাচার ঠেকানোর প্রয়োজন বিবেচনায় মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে পুরোপুরি সমন্বয় করলে ডিজেলের দাম আরও বেশি হতো এবং ভোক্তাদের চাপ কমাতে সরকার ভর্তুকি অব্যাহত রেখেছে।
সমাবেশে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্য ও দুর্নীতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন। কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও জানান।
একই সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানান রেজাউল করিম। তিনি তেল, গ্যাস, সারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার আহ্বান জানান।
কর্মসূচিতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন দলটির নেতাকর্মীরা।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিকের সঞ্চালনায় সমাবেশে নাজিম উদ্দীন মোল্লা, ইয়াসিন আরাফাতসহ দলটির কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের বিভিন্ন নেতা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশ থেকে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার, নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।