তৈরি পোশাকশিল্পে সাধারণ শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলনের সঙ্গে সুপরিকল্পিতভাবে কারখানা ভাঙচুর, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশবক্সে পেট্রল ঢেলে নাশকতার ঘটনাকে কোনোভাবেই এক করে দেখার সুযোগ নেই বলে কড়া মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি স্পষ্ট করেন, শ্রমিকদের সংকট নিরসনে নির্বাচিত সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে তার সমাধানও করা হয়েছে। শ্রমিক নেতারাও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কথা জানিয়েছেন। ফলে সাম্প্রতিক সংঘাত ও সহিংসতাকে নিছক শ্রমিক অসন্তোষ হিসেবে না দেখে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেই বিচার করতে হবে।শুক্রবার (৬ নভেম্বর ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে পোশাক খাতের সাম্প্রতিক অস্থিরতা সংক্রান্ত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি তৈরি পোশাকশিল্পে সম্ভাব্য অস্থিতিশীলতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, মাঠপর্যায়ের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে রিজভী বলেন, ‘সরকারপ্রধান বা প্রধানমন্ত্রীর কাছে রাষ্ট্রের বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে আরও বিস্তারিত ও সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য পৌঁছায়। ফলে তিনি যে গভীর আশঙ্কার কথা উচ্চারণ করেছিলেন, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার মধ্যে তার স্পষ্ট আলামত দৃশ্যমান হচ্ছে।’রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘শ্রমিকদের রুটি-রুজির ন্যায্য দাবি নিয়ে কর্মসূচি পালন করা একটি স্বীকৃত গণতান্ত্রিক বিষয়। কিন্তু আন্দোলনের আড়ালে অতর্কিত পোশাক কারখানায় হামলা, সড়কে গাড়িতে আগুন দেওয়া এবং কর্তব্যরত পুলিশবক্সে পেট্রল ঢেলে জ্বালিয়ে দেওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং অপরাধমূলক তৎপরতা। এসব পরিকল্পিত নাশকতার পেছনে কারা কলকাঠি নাড়ছে, তা সচেতন দেশবাসীর কাছে পরিষ্কার।’পোশাক খাতের অস্থিরতায় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা ও সমর্থন প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া ধারাবাহিক নাশকতা ফ্যাসিবাদের দোসরদের সঙ্গে গুপ্ত রাজনীতির গভীর যোগসাজশকে আবারও জনগণের সামনে উন্মোচিত করেছে।বিরোধী দলগুলোকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে রিজভী বলেন, ‘আগুনে নতুন করে ঘি ঢেলে উত্তেজনা ছড়িয়ে এবং কৃত্রিম ধোঁয়াশা সৃষ্টি করে ঘোলা পানিতে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অপচেষ্টা অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। এ ধরনের বিপজ্জনক উসকানিতে ছড়িয়ে পড়া আগুনের উত্তাপ কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিরোধী দলগুলোর নিজেদের গায়েও লাগতে পারে।’তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, যেকোনো মূল্যে দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি পোশাকশিল্পের নিরাপত্তা রক্ষা এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য প্রতিহত করতে সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও সংকল্পবদ্ধ। এ ধরনের ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি কঠোর হাতে দমন করার মতো যথেষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা সরকারের রয়েছে এবং দেশের সাধারণ জনগণও যেকোনো ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে ঐক্যবদ্ধ।