ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলায় ফাঁসির আদেশ হওয়ার পর একটি মহল দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। সন্ত্রাস ও নাশকতার মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকার চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ কর্মসূচির আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নাশকতার মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টার প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
ইশরাক হোসেনের দাবি, আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী দেশের বাইরে বা আত্মগোপনে থাকলেও তাদের রেখে যাওয়া বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবহন খাতের প্রতিষ্ঠান এখন কারা পরিচালনা করছে, সেটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এসব প্রতিষ্ঠান থেকে অর্জিত অর্থ কোনো ধরনের নাশকতা বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার হচ্ছে কি না, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তা যাচাই করার আহ্বান জানান তিনি।
বিরোধী দলের সাম্প্রতিক কর্মসূচির প্রসঙ্গও উঠে আসে ইশরাকের বক্তব্যে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য সম্প্রতি বিভিন্ন দাবিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ও রংপুর অভিমুখে লংমার্চ করেছে। বিরোধী জোট বলছে, এসব কর্মসূচির লক্ষ্য গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ তাদের বিভিন্ন দাবি আদায়।
ইশরাক অভিযোগ করেন, বিরোধী জোটের লংমার্চের মঞ্চ থেকে আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রত্যাশিত বক্তব্য আসেনি। এ প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ ও বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে কোনো ধরনের সমন্বয় বা যোগসাজশ থাকতে পারে কি না, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে এ বিষয়ে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
অন্যদিকে বিরোধী দলের লংমার্চকে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে দেখার কথাও এর আগে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অধিকার সবার রয়েছে।
সমাবেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, ঢাকা মহানগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল আলম মজনু, সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।