ঢাকা    সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ালে ব্যবস্থা: বাণিজ্যমন্ত্রী

অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ালে ব্যবস্থা: বাণিজ্যমন্ত্রী
ফাইল ছবি
ফলো করুন

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং দাম স্থিতিশীল রাখতে বাজারে নজরদারি আরও জোরদার করার কথা জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, বাজার ব্যবস্থাপনা শুধু রমজান মাসকে কেন্দ্র করে নয়, সারাবছর পণ্যের মূল্য সহনীয় রাখা সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে নিত্যপণ্যের সরবরাহ, মূল্য স্থিতিশীলতা ও সার্বিক বাজার পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বাজারে পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে ব্যবসায়ী সংগঠন, আমদানিকারক, উৎপাদক এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হবে। বর্তমান পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে কেউ অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানো বা অতিরিক্ত মুনাফার চেষ্টা করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

রমজানে বিভিন্ন ভোগ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা বাড়লেও সরকারের পরিকল্পনা কেবল ওই সময়ের জন্য নয় বলে উল্লেখ করেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তার ভাষ্য, সারাবছর বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখাই মূল লক্ষ্য।

সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতির কয়েকটি কারণও তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় কিছু শিল্পের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। পণ্য পরিবহনেও কিছু প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি ঝড়-বৃষ্টিসহ প্রতিকূল আবহাওয়া কয়েকটি এলাকার বাজার ও সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলেছে।

তবে সামনে শীত মৌসুম থাকায় নতুন সবজি বাজারে আসতে শুরু করলে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো পণ্যের দামে সামান্য অস্বাভাবিক পরিবর্তনও সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে। তাই শুধু মূল্য নিয়ন্ত্রণ নয়, বাজারের প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

বাজার তদারকি বাড়াতে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জেলা প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে আমদানিকারকদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে পণ্যের মজুত, আমদানি ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অর্থনৈতিক প্রভাবের কথাও সভায় তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে দেশের অর্থনীতিতেও এর চাপ পড়ে। সরকার ভোক্তাদের ওপর পুরো চাপ না দিয়ে এর একটি অংশ বহন করলে সেটিও শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় অর্থব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলে। এ কারণে জ্বালানির দক্ষ ও সাশ্রয়ী ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় রাখতে বিদ্যমান কর কাঠামোর বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করার কথাও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। বাজার ও ব্যবসা স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী নীতিগত সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

দেশে উৎপাদিত পণ্যের পাশাপাশি যেসব আমদানি পণ্যের ঋণপত্র (এলসি) ইতোমধ্যে খোলা হয়েছে কিংবা যেগুলো জাহাজীকরণের পর্যায়ে রয়েছে, সেগুলোর তথ্যও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে।

সভায় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের পক্ষ থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা, আমদানি, সরবরাহ ও বাজারমূল্যের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। কমিশনের উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, আগের বছরের তুলনায় নিত্যপণ্যের আমদানি এবং এলসি খোলার পরিস্থিতি ইতিবাচক রয়েছে।

ট্যাগ : বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নিত্যপণ্য

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ালে ব্যবস্থা: বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং দাম স্থিতিশীল রাখতে বাজারে নজরদারি আরও জোরদার করার কথা জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, বাজার ব্যবস্থাপনা শুধু রমজান মাসকে কেন্দ্র করে নয়, সারাবছর পণ্যের মূল্য সহনীয় রাখা সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে নিত্যপণ্যের সরবরাহ, মূল্য স্থিতিশীলতা ও সার্বিক বাজার পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বাজারে পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে ব্যবসায়ী সংগঠন, আমদানিকারক, উৎপাদক এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হবে। বর্তমান পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে কেউ অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানো বা অতিরিক্ত মুনাফার চেষ্টা করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

রমজানে বিভিন্ন ভোগ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা বাড়লেও সরকারের পরিকল্পনা কেবল ওই সময়ের জন্য নয় বলে উল্লেখ করেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তার ভাষ্য, সারাবছর বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখাই মূল লক্ষ্য।

সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতির কয়েকটি কারণও তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় কিছু শিল্পের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। পণ্য পরিবহনেও কিছু প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি ঝড়-বৃষ্টিসহ প্রতিকূল আবহাওয়া কয়েকটি এলাকার বাজার ও সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলেছে।

তবে সামনে শীত মৌসুম থাকায় নতুন সবজি বাজারে আসতে শুরু করলে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো পণ্যের দামে সামান্য অস্বাভাবিক পরিবর্তনও সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে। তাই শুধু মূল্য নিয়ন্ত্রণ নয়, বাজারের প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

বাজার তদারকি বাড়াতে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জেলা প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে আমদানিকারকদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে পণ্যের মজুত, আমদানি ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অর্থনৈতিক প্রভাবের কথাও সভায় তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে দেশের অর্থনীতিতেও এর চাপ পড়ে। সরকার ভোক্তাদের ওপর পুরো চাপ না দিয়ে এর একটি অংশ বহন করলে সেটিও শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় অর্থব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলে। এ কারণে জ্বালানির দক্ষ ও সাশ্রয়ী ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় রাখতে বিদ্যমান কর কাঠামোর বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করার কথাও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। বাজার ও ব্যবসা স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী নীতিগত সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

দেশে উৎপাদিত পণ্যের পাশাপাশি যেসব আমদানি পণ্যের ঋণপত্র (এলসি) ইতোমধ্যে খোলা হয়েছে কিংবা যেগুলো জাহাজীকরণের পর্যায়ে রয়েছে, সেগুলোর তথ্যও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে।

সভায় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের পক্ষ থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা, আমদানি, সরবরাহ ও বাজারমূল্যের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। কমিশনের উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, আগের বছরের তুলনায় নিত্যপণ্যের আমদানি এবং এলসি খোলার পরিস্থিতি ইতিবাচক রয়েছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ