রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। তিন দিনব্যাপী ভোট শেষে প্রাথমিক ফলাফলে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-সমর্থিত ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টি বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার সময় উপস্থিতির হার ছিল ৫৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর দেশটিতে এটিই প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন। শুক্রবার শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ রোববার শেষ হয়। নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য ছিলেন প্রায় ১১ কোটি ১০ লাখ মানুষ।
রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫৮ শতাংশ ভোটকেন্দ্রের ফল গণনার পর দলীয় তালিকার ভোটে ইউনাইটেড রাশিয়া প্রায় ৫৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। পরবর্তী গণনাতেও দলটি একই ধরনের ব্যবধান ধরে রেখেছে।
রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ স্টেট ডুমায় মোট ৪৫০টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে ২২৫ আসন দলীয় তালিকার ভোটের ভিত্তিতে বণ্টিত হয়। বাকি ২২৫ আসনে পৃথক নির্বাচনী এলাকা থেকে সরাসরি প্রার্থী নির্বাচিত হন।
এবারের নির্বাচনকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পুতিন নির্বাচনের আগে ভোটকে যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থনের একটি সূচক হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। অন্যদিকে সমালোচকেরা বলছেন, যুদ্ধবিরোধী অধিকাংশ প্রার্থীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরে রাখায় নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা সীমিত ছিল। রুশ কর্তৃপক্ষ নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
ভোটের শেষ দিনে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে বড় ধরনের ড্রোন হামলা হয়। রুশ কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ইউক্রেন নির্বাচন ব্যাহত করার চেষ্টা করেছে। মস্কো অঞ্চল এবং রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা খেরসনের অংশে হামলায় কয়েকজন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ। নিহতদের মধ্যে একজন নির্বাচন কর্মকর্তাও ছিলেন।
ভোটগ্রহণ চলাকালে অনলাইন ভোটিং ব্যবস্থা ও যোগাযোগ অবকাঠামোতেও সাইবার হামলার অভিযোগ করে রুশ কর্তৃপক্ষ। তবে এসব ঘটনার পরও সামগ্রিক ভোটগ্রহণ স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা ইউক্রেনের দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, জাপোরিঝিয়া ও খেরসনের অংশেও ভোট নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২০১৪ সাল থেকে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা ক্রিমিয়াতেও ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। মস্কো এসব অঞ্চলকে রাশিয়ার অংশ হিসেবে দাবি করে। তবে ইউক্রেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় অংশ ওই দাবির স্বীকৃতি দেয় না।
ইউক্রেন রুশ নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ডে এই ভোট আয়োজনের নিন্দা জানিয়েছে এবং অন্য দেশগুলোকে সেখানকার নির্বাচনী ফল স্বীকৃতি না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও এসব অঞ্চলে ভোট আয়োজনকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এদিকে সর্বশেষ গণনায় ইউনাইটেড রাশিয়ার বড় ব্যবধানের জয় আরও স্পষ্ট হয়েছে। ৯৫ শতাংশের বেশি ভোট গণনা শেষে দলটি ৫৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে বলে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য উদ্ধৃত করে জানিয়েছে রয়টার্স।
সূত্র: আল জাজিরা