ইয়েমেনের হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার পর সৌদি আরব ও তার আঞ্চলিক মিত্ররা বড় ধরনের সমন্বিত সামরিক জবাবের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে দাবি করেছেন কিংস কলেজ লন্ডনের জ্যেষ্ঠ গবেষক ও সৌদি সরকারের সাবেক উপদেষ্টা নওয়াফ ওবায়েদ।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হুথিদের ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় আঞ্চলিক অংশীদারদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ছে। সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপ কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়েও পরিকল্পনা চলছে।
ওবায়েদের ভাষ্য অনুযায়ী, হুথিদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য জবাব হবে বড় এবং সমন্বিত। স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথে একযোগে অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য অভিযানের জন্য বিভিন্ন দেশের সামরিক সরঞ্জাম সৌদি আরবে নেওয়া শুরু হয়েছে এবং লোহিত সাগর অঞ্চলেও সামরিক প্রস্তুতি বাড়ানো হচ্ছে। এই প্রস্তুতিতে তুরস্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি। মিসরের সীমিত সম্পৃক্ততার সম্ভাবনার কথাও বলেন ওবায়েদ।
তবে মিসরের সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণের বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। দেশটি সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রতি সমর্থন জানালেও সামরিক সংঘাতে সরাসরি যুক্ত হওয়ার বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
অন্যদিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, হুথিদের হামলার কারণে সৌদি আরবের কিছু সামরিক ও কারিগরি সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে। সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে তুরস্কের ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে আঙ্কারা প্রস্তুত রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে হুথিদের হামলা সৌদি ভূখণ্ড পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। শনিবার রিয়াদ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার চেষ্টা হয়েছিল বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিহত করার দাবি করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী।
এর আগে হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে সৌদি আরব আঞ্চলিক ও পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে আকাশ প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা চেয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।
নওয়াফ ওবায়েদের মতে, বাইরে থেকে দেখলে হুথিদের মোকাবিলায় সৌদি আরবকে একা মনে হতে পারে। তবে পর্দার আড়ালে বিভিন্ন দেশের মধ্যে সামরিক ও নিরাপত্তা সমন্বয় চলছে।
সম্ভাব্য অভিযান শুরুর আগে দীর্ঘ প্রস্তুতির কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। তার মতে, একাধিক দেশের বাহিনী যুক্ত থাকা বড় আকারের সামরিক অভিযান দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ কারণে পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
তবে সৌদি আরব এখন পর্যন্ত নওয়াফ ওবায়েদের বর্ণনা অনুযায়ী স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথে একযোগে বড় সামরিক অভিযান শুরুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।