যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা না পাওয়ায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সরাসরি উপস্থিত হতে পারছেন না ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। এর পরিবর্তে ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে অধিবেশনে ভাষণ দেবেন তিনি।
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টকে ভার্চুয়ালি অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দিয়েছে ১৫২টি দেশ। বিপক্ষে ভোট পড়েছে তিনটি এবং চারটি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, অনুমোদিত ব্যবস্থাটি শুধু এবারের অধিবেশনের জন্য নয়। আগামী এক বছর মাহমুদ আব্বাসসহ ফিলিস্তিনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়লে ভিডিওর মাধ্যমে জাতিসংঘের বিভিন্ন সভা ও সম্মেলনে অংশ নিতে পারবেন।
গত বছরও নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছিলেন মাহমুদ আব্বাস। সে সময় ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থা (পিএলও) ও পশ্চিম তীরভিত্তিক ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর ভিসাসংক্রান্ত বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল ওয়াশিংটন।
এবার যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের ওপর আরোপিত ভিসা নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও বাড়ানো হয়েছে।
জাতিসংঘে ভোটের আগে যুক্তরাষ্ট্রের উপ-রাষ্ট্রদূত ট্যামি ব্রুস ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অংশীদার হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে হলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে সন্ত্রাসে অর্থায়ন বন্ধ করাসহ শাসনব্যবস্থার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন ফিলিস্তিনি নেতারা। জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের দূত রিয়াদ মানসুর জানিয়েছেন, তারা ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টার কারণে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের ওপর ভিসা বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক আদালত ও ট্রাইব্যুনালে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেছে ওয়াশিংটন।
জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ১৯৪৭ সালে স্বাক্ষরিত হেডকোয়ার্টার্স অ্যাগ্রিমেন্ট অনুযায়ী, জাতিসংঘের কার্যক্রমে অংশ নিতে নিউইয়র্কে যাওয়া বিদেশি প্রতিনিধিদের সাধারণত প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার কথা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিসংশ্লিষ্ট নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ভিসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার তাদের রয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নিচ্ছেন।