রাশিয়ার রাজধানী মস্কো ও আশপাশের এলাকায় বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। রুশ কর্মকর্তাদের দাবি, রাতভর হামলায় অন্তত দুজন নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন। হামলায় মস্কোর একটি তেল শোধনাগার, আবাসিক ভবন ও একটি গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়া।
মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রি ভোরোবিয়ভ জানান, স্থানীয় সময় রাত ৩টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে মস্কো অঞ্চলের ১৭টি এলাকায় ২৪৯টি ড্রোন ভূপাতিত বা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। তবে কয়েকটি ড্রোন বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হানায় আগুন লাগে।
গভর্নর বলেন, রামেনস্কি জেলার সোফিয়ানো এলাকায় একটি তিনতলা আবাসিক ভবনে ড্রোন আঘাত হানে। এতে ৪৪ বছর বয়সী এক নারী নিহত হন। ওই ভবনের আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। ভবনটির ছয়টি ফ্ল্যাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
অন্যদিকে, ওরেখোভো-জুয়েভো জেলায় ড্রোন হামলায় একটি ব্যক্তিগত বাড়ি ধ্বংস ও আগুন লাগার ঘটনায় এক বৃদ্ধ নিহত হন। লেনিনস্কি জেলাতেও একজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন দাবি করেন, রাজধানী লক্ষ্য করে আসা প্রায় ৪৫০টি ড্রোন রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। তিনি এ হামলাকে মস্কোর ওপর ইউক্রেনের ‘সবচেয়ে বড়’ ড্রোন হামলা হিসেবে উল্লেখ করেন।
সোবিয়ানিনের ভাষ্য, কয়েকটি ড্রোন মস্কো তেল শোধনাগারের এলাকায় আঘাত হেনেছে। এ ছাড়া একটি আবাসিক ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে মস্কোর দুটি বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে বিমান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে মস্কোর আকাশে বিস্ফোরণ এবং একটি গুদামে আগুনের দৃশ্য দেখা গেছে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এসব ভিডিও ও ক্ষয়ক্ষতির সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে শনিবার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ এবং পূর্বাঞ্চলীয় সুমি শহরে রাশিয়ার হামলায় সাতজন নিহত হন বলে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুই শিশুও ছিল। ওই হামলায় আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হন।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই জ্বালানি অবকাঠামো, পরিবহন ব্যবস্থা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে।
সূত্র: বিবিসির