লিবিয়ার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিভাজন নিরসনে দেশটির একটি একীভূত সরকার গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগ নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। এই উদ্যোগ রাজধানী ত্রিপোলিতে অবস্থানরত বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ আরও গভীর করছে বলে বিশ্লেষকদের মন্তব্য।
আল জাজিরার এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলভিত্তিক সরকার এবং পূর্বাঞ্চলভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রশাসনের মধ্যে একটি ক্ষমতা ভাগাভাগির কাঠামো গড়ে তুলতে কাজ করছে। লক্ষ্য হলো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে একীভূত করা এবং দীর্ঘদিনের বিভক্ত শাসন কাঠামোর অবসান ঘটানো।
তবে এই প্রস্তাব ত্রিপোলিভিত্তিক রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। অনেক গোষ্ঠী আশঙ্কা করছে, এই ধরনের সমঝোতা বিদ্যমান ক্ষমতাধর মিলিশিয়াদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারে এবং প্রকৃত রাজনৈতিক সংস্কারের পথ বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
লিবিয়া ২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকেই রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত। বর্তমানে দেশটিতে পশ্চিমাঞ্চলে জাতিসংঘ-স্বীকৃত সরকার এবং পূর্বাঞ্চলে আলাদা প্রশাসন কার্যকর রয়েছে, যাদের মধ্যে ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু ক্ষেত্রে সীমিত সহযোগিতা দেখা গেলেও পূর্ণ রাজনৈতিক ঐক্য এখনও অর্জিত হয়নি। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্যোগকে লিবিয়ার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু বিতর্কিত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা