ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার সময় ইউরোপের কয়েকটি মিত্র দেশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব সক্ষমতায় লক্ষ্য অর্জন করতে পারলেও ইউরোপীয় অংশীদারদের কাছ থেকে আরও দৃশ্যমান ও সক্রিয় সমর্থন প্রত্যাশা করেছিলেন।
হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে এক বৈঠকে ট্রাম্প এ বিষয়ে মন্তব্য করেন। আলোচনার সময় তিনি জানান, সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের সহায়তার প্রয়োজন না হলেও মিত্র দেশগুলোর স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা পরিস্থিতিকে আরও ইতিবাচক করতে পারত।
ট্রাম্প বিশেষভাবে কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের ভূমিকা নিয়ে হতাশার কথা তুলে ধরেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইতালি, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্সের মতো দীর্ঘদিনের মিত্রদের কাছ থেকে তিনি আরও শক্ত অবস্থান ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছিলেন।
এ সময় তিনি স্পেনেরও সমালোচনা করেন এবং দেশটির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেন। ট্রাম্পের মতে, কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে স্পেনের সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটনের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।
মার্কিন প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায় থেকে আগে থেকেই অভিযোগ করা হচ্ছিল যে ইউরোপীয় দেশগুলো প্রয়োজনীয় সামরিক ও লজিস্টিক সহায়তা প্রদানে যথেষ্ট সক্রিয় ছিল না। বিশেষ করে স্পেনে অবস্থিত কিছু যৌথ সামরিক স্থাপনা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকরা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখেছেন।
ওয়াশিংটনের দাবি, এই ধরনের সীমাবদ্ধতা সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। যদিও ইউরোপীয় দেশগুলোর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান ও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে কৌশলগত সমন্বয় এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা উসকে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে ন্যাটো জোটের ভেতরে দায়িত্ব বণ্টন ও নিরাপত্তা সহযোগিতা প্রশ্নে এ ধরনের বিষয় আরও গুরুত্ব পেতে পারে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই