রাজধানীর গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার আরও ৯ আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
রোববার শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।
এর আগে আসামিদের আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন গুলশান থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন।
কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন রেহানা পারভিন (৪৩), মো. সাইফুল ইসলাম (৫২), মো. জুয়েল শিকদার (৩৩), মো. নাজিম উদ্দিন (৩৪), মো. সাহেদ (৩৭), শান্ত শেখ (২৮), মো. হারুন মাইজভান্ডারী (৫৫), খালেদ মাহমুদ ফয়সাল (৪০) ও মো. সফিকুর রহমান (৫০)।
পুলিশের আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিদের কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের পরিচয় ও ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় তথ্য পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, আসামিদের বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে রিমান্ড আবেদন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে শনিবার একই মামলায় ২৪ আসামিকে ১০ দিনের রিমান্ডে পাঠান ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ১১ সেপ্টেম্বর দুপুর পৌনে ১২টার দিকে গুলশান থানা এলাকায় একটি সমাবেশকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। অভিযোগে বলা হয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী এবং নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সদস্যরা সেখানে জড়ো হয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান দেন।
পুলিশের দাবি, তাদের ছত্রভঙ্গ করার সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। এ সময় পাঁচটি ককটেল জব্দ করার কথাও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর গুলশান থানার উপপরিদর্শক মো. মাহবুব হোসাইন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন।
মামলায় ১১৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাত আরও ৮০ থেকে ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।