ঢাকা    শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

বনানীতে ২৫ বছর কবর সংরক্ষণে লাগবে দেড় কোটি টাকা

বনানীতে ২৫ বছর কবর সংরক্ষণে লাগবে দেড় কোটি টাকা
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

রাজধানীর অন্যতম ব্যয়বহুল আবাসিক এলাকা বনানী। আকাশছোঁয়া ভবন, করপোরেট অফিস ও উচ্চমূল্যের আবাসনের পাশাপাশি এখানকার আরেকটি বাস্তবতা এখন আলোচনায় এসেছে। সেটি হলো দীর্ঘ সময়ের জন্য কবর সংরক্ষণের বিপুল ব্যয়।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নীতিমালা অনুযায়ী, বনানী কবরস্থানে একটি কবর ১৫ বছরের জন্য সংরক্ষণ করতে ১ কোটি টাকা এবং ২৫ বছরের জন্য দেড় কোটি টাকা দিতে হয়। ডিএনসিসির আওতাধীন কবরস্থানগুলোর মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ সংরক্ষণ ফি।

বনানীতে বর্তমানে প্রায় দুই হাজার বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটের দাম অবস্থান, ভবনের বয়স ও সুযোগ-সুবিধাভেদে কয়েক কোটি টাকা। ফলে আবাসনের পাশাপাশি কবর সংরক্ষণের বিপুল ব্যয়ও রাজধানীতে জমির তীব্র সংকটের চিত্র তুলে ধরছে।

তবে কবর সংরক্ষণের এই অর্থ জমির মালিকানা মূল্য নয়। নির্ধারিত সময়ের জন্য একটি কবর পুনর্ব্যবহার না করে সংরক্ষণ করতেই এ ফি নেওয়া হয়।

বনানী কবরস্থানে নতুন জায়গার সংকট দীর্ঘদিনের। জায়গা না থাকায় পুরনো কবর পুনর্ব্যবহার করে নতুন মরদেহ দাফন করতে হচ্ছে। একটি সংরক্ষিত কবরে পুনরায় পরিবারের সদস্যকে দাফনের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত ফি রয়েছে।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বনানীতে পুনঃকবরের জন্য ৫০ হাজার ৫০০ টাকা দিতে হয়।

কবরস্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নিয়মিতই অনেকে দীর্ঘমেয়াদে কবর সংরক্ষণের বিষয়ে খোঁজ নিতে আসেন। কিন্তু অর্থ ব্যয় করার সামর্থ্য থাকলেও নতুন জায়গা পাওয়ার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত।

শুধু বনানী নয়, পুরো রাজধানীতেই কবরস্থানের জায়গার ওপর চাপ বাড়ছে। ঢাকার জনসংখ্যা দ্রুত বাড়লেও সেই অনুপাতে নতুন কবরস্থান তৈরি হয়নি। ফলে বিদ্যমান কবরগুলো একটি নির্দিষ্ট সময় পর পুনর্ব্যবহার করতে হচ্ছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অধীনে বনানী ছাড়াও উত্তরা, মিরপুর ও রায়েরবাজারে একাধিক কবরস্থান রয়েছে। জায়গার চাহিদা ও অবস্থান অনুযায়ী প্রতিটি কবরস্থানের সংরক্ষণ ফি আলাদা।

বনানীর পর উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টর কবরস্থানে দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ ব্যয় বেশি। অন্যদিকে রায়েরবাজারে তুলনামূলক কম খরচে কবর সংরক্ষণের সুযোগ রয়েছে।

রাজধানীর আরেক বড় কবরস্থান আজিমপুরেও জায়গার চাপ বাড়ছে। প্রতিদিন সেখানে বহু মানুষের দাফন হয়। নতুন জায়গার অভাবে একটি নির্দিষ্ট সময় পর পুরনো কবর পুনর্ব্যবহার করা হচ্ছে।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, কবরস্থান শুধু ধর্মীয় বা আবেগের বিষয় নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবা। শহরের জনসংখ্যা, ভবিষ্যৎ মৃত্যু হার এবং ভূমির ব্যবহার বিবেচনায় রেখে কবরস্থানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।

বর্তমান বেসরকারি ভূমি উন্নয়ন বিধিমালায় নির্দিষ্ট জনসংখ্যার বিপরীতে কবরস্থানের জমি রাখার বিধান রয়েছে। তবে রাজধানীর দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে বাস্তবে কবরস্থানের জায়গা বাড়েনি।

বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় বিভিন্ন ওয়ার্ডে ছোট ছোট কবরস্থান তৈরির সুপারিশ থাকলেও নগরের মূল্যবান জমি, ঘনবসতি ও ভূমির বিকল্প ব্যবহারের কারণে নতুন কবরস্থান তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আগামী দুই দশকে ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাসকারী পরিবারের সংখ্যা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে গ্রামের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের যোগাযোগ কমে এলে ঢাকাতেই স্বজনদের দাফনের প্রবণতাও বাড়তে পারে।

সে কারণে এখন থেকেই কবরস্থানের জমি সংরক্ষণ, পুরনো কবর ব্যবস্থাপনা এবং নতুন কবরস্থান তৈরির বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা না নিলে ভবিষ্যতে সংকট আরও প্রকট হতে পারে।

সূত্র : বণিক বার্তা

ট্যাগ : ডিএনসিসি বনানী কবরস্থান

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বনানীতে ২৫ বছর কবর সংরক্ষণে লাগবে দেড় কোটি টাকা

প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

রাজধানীর অন্যতম ব্যয়বহুল আবাসিক এলাকা বনানী। আকাশছোঁয়া ভবন, করপোরেট অফিস ও উচ্চমূল্যের আবাসনের পাশাপাশি এখানকার আরেকটি বাস্তবতা এখন আলোচনায় এসেছে। সেটি হলো দীর্ঘ সময়ের জন্য কবর সংরক্ষণের বিপুল ব্যয়।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নীতিমালা অনুযায়ী, বনানী কবরস্থানে একটি কবর ১৫ বছরের জন্য সংরক্ষণ করতে ১ কোটি টাকা এবং ২৫ বছরের জন্য দেড় কোটি টাকা দিতে হয়। ডিএনসিসির আওতাধীন কবরস্থানগুলোর মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ সংরক্ষণ ফি।

বনানীতে বর্তমানে প্রায় দুই হাজার বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটের দাম অবস্থান, ভবনের বয়স ও সুযোগ-সুবিধাভেদে কয়েক কোটি টাকা। ফলে আবাসনের পাশাপাশি কবর সংরক্ষণের বিপুল ব্যয়ও রাজধানীতে জমির তীব্র সংকটের চিত্র তুলে ধরছে।

তবে কবর সংরক্ষণের এই অর্থ জমির মালিকানা মূল্য নয়। নির্ধারিত সময়ের জন্য একটি কবর পুনর্ব্যবহার না করে সংরক্ষণ করতেই এ ফি নেওয়া হয়।

বনানী কবরস্থানে নতুন জায়গার সংকট দীর্ঘদিনের। জায়গা না থাকায় পুরনো কবর পুনর্ব্যবহার করে নতুন মরদেহ দাফন করতে হচ্ছে। একটি সংরক্ষিত কবরে পুনরায় পরিবারের সদস্যকে দাফনের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত ফি রয়েছে।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বনানীতে পুনঃকবরের জন্য ৫০ হাজার ৫০০ টাকা দিতে হয়।

কবরস্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নিয়মিতই অনেকে দীর্ঘমেয়াদে কবর সংরক্ষণের বিষয়ে খোঁজ নিতে আসেন। কিন্তু অর্থ ব্যয় করার সামর্থ্য থাকলেও নতুন জায়গা পাওয়ার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত।

শুধু বনানী নয়, পুরো রাজধানীতেই কবরস্থানের জায়গার ওপর চাপ বাড়ছে। ঢাকার জনসংখ্যা দ্রুত বাড়লেও সেই অনুপাতে নতুন কবরস্থান তৈরি হয়নি। ফলে বিদ্যমান কবরগুলো একটি নির্দিষ্ট সময় পর পুনর্ব্যবহার করতে হচ্ছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অধীনে বনানী ছাড়াও উত্তরা, মিরপুর ও রায়েরবাজারে একাধিক কবরস্থান রয়েছে। জায়গার চাহিদা ও অবস্থান অনুযায়ী প্রতিটি কবরস্থানের সংরক্ষণ ফি আলাদা।

বনানীর পর উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টর কবরস্থানে দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ ব্যয় বেশি। অন্যদিকে রায়েরবাজারে তুলনামূলক কম খরচে কবর সংরক্ষণের সুযোগ রয়েছে।

রাজধানীর আরেক বড় কবরস্থান আজিমপুরেও জায়গার চাপ বাড়ছে। প্রতিদিন সেখানে বহু মানুষের দাফন হয়। নতুন জায়গার অভাবে একটি নির্দিষ্ট সময় পর পুরনো কবর পুনর্ব্যবহার করা হচ্ছে।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, কবরস্থান শুধু ধর্মীয় বা আবেগের বিষয় নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবা। শহরের জনসংখ্যা, ভবিষ্যৎ মৃত্যু হার এবং ভূমির ব্যবহার বিবেচনায় রেখে কবরস্থানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।

বর্তমান বেসরকারি ভূমি উন্নয়ন বিধিমালায় নির্দিষ্ট জনসংখ্যার বিপরীতে কবরস্থানের জমি রাখার বিধান রয়েছে। তবে রাজধানীর দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে বাস্তবে কবরস্থানের জায়গা বাড়েনি।

বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় বিভিন্ন ওয়ার্ডে ছোট ছোট কবরস্থান তৈরির সুপারিশ থাকলেও নগরের মূল্যবান জমি, ঘনবসতি ও ভূমির বিকল্প ব্যবহারের কারণে নতুন কবরস্থান তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আগামী দুই দশকে ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাসকারী পরিবারের সংখ্যা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে গ্রামের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের যোগাযোগ কমে এলে ঢাকাতেই স্বজনদের দাফনের প্রবণতাও বাড়তে পারে।

সে কারণে এখন থেকেই কবরস্থানের জমি সংরক্ষণ, পুরনো কবর ব্যবস্থাপনা এবং নতুন কবরস্থান তৈরির বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা না নিলে ভবিষ্যতে সংকট আরও প্রকট হতে পারে।

সূত্র : বণিক বার্তা


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ