মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে একযোগে কাজ করতে প্রস্তুত চীন। শনিবার নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ কথা জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘায়িত সংঘাত সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকায় মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে এই যুদ্ধ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অভিন্ন স্বার্থেরও পরিপন্থী। এ পরিস্থিতিতে ব্রিকসকে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আরও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে বলে মত দেন তিনি।
শি জিনপিং ব্রিকস সদস্য দেশগুলোকে ‘ইতিহাসের সঠিক পক্ষে’ থেকে শান্তি, সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, সামরিক সংঘাত দীর্ঘায়িত করার পরিবর্তে রাজনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি করাই এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
এবারের ব্রিকস সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধ, জ্বালানি নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সম্মেলনের যৌথ ঘোষণাতেও মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে সংযম ও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শান্তি ও নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রযুক্তি এবং নতুন বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার ক্ষেত্রেও ব্রিকসের সহযোগিতা বাড়ানোর কথা বলেন শি জিনপিং। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার স্পেস, মহাকাশ এবং গভীর সমুদ্রের মতো নতুন ক্ষেত্রগুলোর নিয়ম ও শাসনকাঠামো তৈরিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বেইজিং। চীন এর আগে ব্রিকসের মধ্যেও এআই ও নতুন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সমন্বিত নীতিমালা তৈরির আহ্বান জানিয়েছে।
এবারের সম্মেলন শি জিনপিংয়ের ভারত সফরের কারণেও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সাত বছর পর প্রথমবার ভারতে গেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট। ২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীনের সেনাদের প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কে যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, সাম্প্রতিক সময়ে তা কিছুটা কমতে শুরু করেছে। শি জিনপিংয়ের এই সফরকে সেই সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশের নেতারাও অংশ নিয়েছেন। ফলে আঞ্চলিক যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ এবারের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
চীন দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের সংকট সমাধানে সংলাপের পক্ষে অবস্থান জানিয়ে আসছে। বেইজিংয়ের বক্তব্য, অঞ্চলটির দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সামরিক শক্তির বদলে রাজনৈতিক সমাধান ও আঞ্চলিক সহযোগিতাকে প্রাধান্য দেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে ২০২৭ সালে ব্রিকসের সভাপতিত্ব গ্রহণ করবে চীন। একই সঙ্গে জোটটির ১৯তম শীর্ষ সম্মেলনও আয়োজন করবে বেইজিং। ফলে নয়াদিল্লি সম্মেলনে শি জিনপিংয়ের বক্তব্যকে আগামী বছর ব্রিকসে চীনের অগ্রাধিকার ও কৌশলের আগাম ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হচ্ছে।