ঢাকা    রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ২১ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

প্রতিশোধ থেকে আক্রমণে যাচ্ছে ইরান? বদলাচ্ছে সামরিক কৌশল

প্রতিশোধ থেকে আক্রমণে যাচ্ছে ইরান? বদলাচ্ছে সামরিক কৌশল
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের ছয় মাস পর সামরিক কৌশলে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে ইরান। দেশটির কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এখন থেকে শুধু প্রতিশোধমূলক হামলার পরিবর্তে আক্রমণাত্মক সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে তেহরান।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরান মনে করছে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের হাতে কিছু কৌশলগত সুবিধা রয়েছে, যা কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ বাড়ানো সম্ভব।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সংঘাতের পর ইরান এতদিন তাদের সামরিক পদক্ষেপকে মূলত পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে তুলে ধরেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে আক্রমণাত্মক অভিযানের প্রস্তুতির কথা বলছেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি চলতি মাসে সামরিক নেতৃত্বে পরিবর্তনের সময় ‘সর্বোচ্চ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি’ এবং ‘বড় আকারের আক্রমণাত্মক অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি’ নেওয়ার নির্দেশ দেন।

এ ছাড়া ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশটি তাদের সামরিক নীতিতে পরিবর্তন এনে আক্রমণাত্মক অভিযানকে কৌশলগত অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এর অর্থ এই নয় যে ইরান আগাম যুদ্ধ শুরু করার নীতি গ্রহণ করছে। বরং তেহরান মনে করছে, ভবিষ্যতে সংঘাত অনিবার্য হলে আগে থেকেই শক্ত অবস্থান নিতে হবে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক সিনা তৌসি বলেন, ইরানের ধারণা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংঘাতের শর্ত নির্ধারণের আগেই তাদের আরও শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া দেখাতে হবে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা বর্তমানে স্থবির রয়েছে। জুনের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র আবারও তেল নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের বন্দর অবরোধ জোরদার করেছে।

বিশ্লেষক আহমদ জেইদাবাদির মতে, ইরান মনে করছে বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ কমে গেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের শর্তে আলোচনায় আনতে চাপ প্রয়োগের পথ বেছে নিতে পারে তেহরান।

এদিকে হরমুজ প্রণালি ইরানের কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত এই জলপথে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলো দ্রুত হরমুজে স্বাভাবিক নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে চাইছে।

ইরান দাবি করছে, সাম্প্রতিক সংঘাতে তারা রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। দেশটির শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ বলেছেন, এই সংঘাতের পর ইরান বিজয়ী অবস্থানে রয়েছে।

তবে নতুন কৌশল বড় ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, উভয় পক্ষ যদি নিজেদের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পদক্ষেপকে অপর পক্ষের আগ্রাসন হিসেবে দেখে, তাহলে পরিস্থিতি দ্রুত বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

ট্যাগ : ইরান যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬


প্রতিশোধ থেকে আক্রমণে যাচ্ছে ইরান? বদলাচ্ছে সামরিক কৌশল

প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের ছয় মাস পর সামরিক কৌশলে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে ইরান। দেশটির কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এখন থেকে শুধু প্রতিশোধমূলক হামলার পরিবর্তে আক্রমণাত্মক সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে তেহরান।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরান মনে করছে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের হাতে কিছু কৌশলগত সুবিধা রয়েছে, যা কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ বাড়ানো সম্ভব।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সংঘাতের পর ইরান এতদিন তাদের সামরিক পদক্ষেপকে মূলত পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে তুলে ধরেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে আক্রমণাত্মক অভিযানের প্রস্তুতির কথা বলছেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি চলতি মাসে সামরিক নেতৃত্বে পরিবর্তনের সময় ‘সর্বোচ্চ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি’ এবং ‘বড় আকারের আক্রমণাত্মক অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি’ নেওয়ার নির্দেশ দেন।

এ ছাড়া ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশটি তাদের সামরিক নীতিতে পরিবর্তন এনে আক্রমণাত্মক অভিযানকে কৌশলগত অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এর অর্থ এই নয় যে ইরান আগাম যুদ্ধ শুরু করার নীতি গ্রহণ করছে। বরং তেহরান মনে করছে, ভবিষ্যতে সংঘাত অনিবার্য হলে আগে থেকেই শক্ত অবস্থান নিতে হবে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক সিনা তৌসি বলেন, ইরানের ধারণা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংঘাতের শর্ত নির্ধারণের আগেই তাদের আরও শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া দেখাতে হবে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা বর্তমানে স্থবির রয়েছে। জুনের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র আবারও তেল নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের বন্দর অবরোধ জোরদার করেছে।

বিশ্লেষক আহমদ জেইদাবাদির মতে, ইরান মনে করছে বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ কমে গেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের শর্তে আলোচনায় আনতে চাপ প্রয়োগের পথ বেছে নিতে পারে তেহরান।

এদিকে হরমুজ প্রণালি ইরানের কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত এই জলপথে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলো দ্রুত হরমুজে স্বাভাবিক নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে চাইছে।

ইরান দাবি করছে, সাম্প্রতিক সংঘাতে তারা রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। দেশটির শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ বলেছেন, এই সংঘাতের পর ইরান বিজয়ী অবস্থানে রয়েছে।

তবে নতুন কৌশল বড় ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, উভয় পক্ষ যদি নিজেদের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পদক্ষেপকে অপর পক্ষের আগ্রাসন হিসেবে দেখে, তাহলে পরিস্থিতি দ্রুত বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ