নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করতে না পারলে কোনো সরকারের ক্ষমতায় থাকার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় সরকার ব্যর্থ হলে সক্ষম নেতৃত্বের হাতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।
রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মধুবাগ মাঠে দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। জনগণের মৌলিক স্বাস্থ্য সুরক্ষাসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো একে একে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, সরকার জনস্বার্থে কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না এবং বিরোধী পক্ষকেও ভালো কাজ করার সুযোগ দিচ্ছে না।
চলমান ডেঙ্গু পরিস্থিতিকে ‘মহামারির সমতুল্য’ উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকানো এবং মানুষের জীবন রক্ষায় তার দল মাঠপর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে। সরকারের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “ধাক্কা দিয়ে সরকারের ঘুম ভাঙিয়ে দেওয়া হবে।” নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও শান্তি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে বিকল্প নেতৃত্ব সামনে আসবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
বিমানবন্দরে দলীয় সংসদ সদস্যদের হেনস্তার ঘটনারও নিন্দা জানান শফিকুর রহমান। অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে করা মামলাকে তিনি ‘ভিত্তিহীন ও মিথ্যা’ বলে দাবি করেন। তার ভাষ্য, আখতারুজ্জামান কারও ওপর চড়াও হননি এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ‘হাজার ভাগ মিথ্যা’।
শফিকুর রহমান বলেন, মেজর আখতারুজ্জামান শুধু জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি নন, বর্তমানে দেশের নির্যাতিত ও ভুক্তভোগী মানুষেরও বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। ঘটনাটিকে হালকাভাবে না নিতে তিনি দেশে ও প্রবাসে থাকা বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানান।
আইন প্রয়োগে দ্বিমুখী আচরণের অভিযোগও করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তার বক্তব্য অনুযায়ী, জনগণের চোখে ধুলা দিতে একজনকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করানো হলেও তিনি দল ছাড়েননি এবং তাকে হাতকড়াও পরানো হয়নি। অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার ব্যক্তিদের সঙ্গে নির্মম আচরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, মেজর আখতারুজ্জামান নিজেই ডিবিকে বলেছিলেন তাকে হাতকড়া পরিয়ে সালাহউদ্দিন সাহেবের ইচ্ছা শতভাগ পূরণ করতে।
সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও লুটপাটের অভিযোগ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের করের অর্থ বিভিন্ন পর্যায়ে চুরি ও লুটপাট হতে থাকলে সাধারণ মানুষ আর নীরব থাকবে না। স্বাস্থ্যসেবার পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, একটি দায়িত্বশীল মেডিকেল প্রতিষ্ঠানে সাধারণ নাগরিকদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা না গেলে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের নৈতিক বৈধতাও প্রশ্নের মুখে পড়ে।
জনগণের নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় সরকার ব্যর্থ হলে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব এমন নেতৃত্বের হাতে তুলে দেওয়া হবে, যারা তা নিশ্চিত করতে সক্ষম বলে হুঁশিয়ারি দেন জামায়াত আমির।
মন্তব্যসমূহ