কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সম্ভাবনা ও ঝুঁকি পর্যালোচনায় হোয়াইট হাউসের নতুন উদ্যোগের নেতৃত্ব দিতে জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জে ক্লেটনকে নিয়োগ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে তাকে ট্রাম্প প্রশাসনের সর্বশেষ ‘এআই সম্রাট’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স’ নামে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচিত এই টাস্কফোর্সকে আগামী ১২০ দিনের মধ্যে হোয়াইট হাউসে একটি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। দ্রুত বিকশিত এআই প্রযুক্তির সক্ষমতা পর্যালোচনা, জাতীয় নিরাপত্তা ও সাইবার নিরাপত্তার সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করা এবং এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় মার্কিন সরকারের করণীয় সম্পর্কে সুপারিশ দেওয়াই হবে এই প্রতিবেদনের মূল লক্ষ্য।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত আগস্টে জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া জে ক্লেটন এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ক্লেটন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যাতে উন্নত এআই প্রযুক্তিতে বিশ্ব নেতৃত্ব ধরে রাখতে পারে এবং একই সঙ্গে মার্কিন নাগরিকদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে, তা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
টাস্কফোর্সটি এআই-সংক্রান্ত তথ্য ফাঁস, সাইবার হামলা এবং অন্যান্য ঘটনার রিপোর্ট করার ক্ষেত্রে সরকারের বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলো পর্যালোচনা করবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করে এসব ঘটনায় সরকারের প্রতিক্রিয়া কীভাবে আরও কার্যকর করা যায়, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।
বিশ্বজুড়ে এআইয়ের নিরাপত্তা, সাইবার হামলা, কর্মসংস্থানে সম্ভাব্য প্রভাব এবং ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে ওঠা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসন নতুন এই উদ্যোগ নিয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম সরকারি নিয়ন্ত্রণের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন ট্রাম্প। তার যুক্তি, অতিরিক্ত সরকারি বিধিনিষেধ চীনের সঙ্গে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা দুর্বল করে দিতে পারে। এ কারণে তার প্রশাসন ব্যাপক বাধ্যতামূলক নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে উদ্ভাবন, স্বেচ্ছামূলক নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর নিজস্ব নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
চীনের সঙ্গে উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতার বিষয়টিও নতুন এই উদ্যোগে প্রতিফলিত হয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক এআই নীতিমালা তৈরির ক্ষেত্রে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সহযোগিতা করার কোনো পরিকল্পনা তার নেই। বরং এআই প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখার ওপরই তিনি জোর দিয়েছেন।
জে ক্লেটনের সঙ্গে টাস্কফোর্সের সহ-সভাপতি হিসেবে কাজ করবেন এমিল মাইকেল, স্কট কাপোর এবং ফেডারেল ট্রেড কমিশনের চেয়ারম্যান অ্যান্ড্রু ফার্গুসন। টাস্কফোর্সের সদস্য হিসেবে থাকবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলস।
বিনিয়োগকারী ডেভিড স্যাকস এবং সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কনডোলিজা রাইসকে এই উদ্যোগে বাইরের উপদেষ্টা হিসেবে রাখা হবে বলে জানা গেছে।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এটি প্রশাসনজুড়ে এআই নেতৃত্ব দেওয়ার দ্বিতীয় উদ্যোগ। রয়টার্স জানিয়েছে, এর আগে ডেভিড স্যাকস প্রশাসনের ‘এআই সম্রাট’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
এআইয়ের ঝুঁকি মোকাবিলা করতে গিয়ে যাতে প্রযুক্তির উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত না হয়, সেই ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন ওয়াশিংটনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এআই নিয়ে মানবসভ্যতার অস্তিত্বের জন্য বড় ধরনের হুমকির বিষয়ে দেওয়া কিছু সতর্কতাকে অতিরঞ্জিত বলে মন্তব্য করেছেন। তবে তিনি মনে করেন, এআইয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রধান দায়িত্ব প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোরই নেওয়া উচিত।
আগামী ১২০ দিনের এই পর্যালোচনায় তাই এআই উদ্ভাবন, জাতীয় নিরাপত্তা ও জনসুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে চীনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব কীভাবে ধরে রাখা যায়, সেটিই বড় পরীক্ষার বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্যসমূহ