ঢাকা    রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ২১ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

হরমুজে বদলাচ্ছে সমীকরণ, বাড়ছে মার্কিন প্রভাব

হরমুজে বদলাচ্ছে সমীকরণ, বাড়ছে মার্কিন প্রভাব
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে প্রভাব বিস্তারকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা এখন ইরান সংকটের অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন নৌবাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বাড়ছে, অন্যদিকে ইরানের নিয়ন্ত্রণ আগের তুলনায় দুর্বল হচ্ছে।

শিপিং ডেটা বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী ৮০ শতাংশের বেশি জাহাজ ওমানের উপকূলীয় বিকল্প রুট ব্যবহার করেছে।

ইরান দীর্ঘদিন ধরে এই রুটের ওপর নিজেদের প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করে আসছে। তবে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতির কারণে অনেক জাহাজ এখন ইরানের চাপ বা হুমকি উপেক্ষা করে বিকল্প পথ বেছে নিচ্ছে।

কেপলারের প্রধান বিশ্লেষক হোমায়ুন ফালাকশাহি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত করছে যে ইরান অন্তত আংশিকভাবে হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জাহাজগুলো ইরান নিয়ন্ত্রিত পথ এড়িয়ে চলায় দেশটির সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সুবিধাও কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো ইরানের ঝুঁকি এড়াতে নতুন কৌশল গ্রহণ করছে।

কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো বড় আকারের তেলবাহী জাহাজ ব্যবহার করছে। কিছু ক্ষেত্রে ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ রেখে নির্দিষ্ট এলাকায় তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে তারা নিরাপদ বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছে।

মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, বর্তমানে হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের নৌপথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় দেড় কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন হচ্ছে। যা সংঘাত শুরুর আগের স্বাভাবিক প্রবাহের কাছাকাছি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। কারণ ইরান এখনো হামলার হুমকি ও সামরিক সক্ষমতার মাধ্যমে প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করছে।

তবে আগের তুলনায় ইরানের প্রভাব কমেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে বাইরে রেখে ওমান ও ইরান নৌপথে চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে, যা ওয়াশিংটনের জন্য নতুন কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

সূত্র: সিএনএন

ট্যাগ : ইরান যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬


হরমুজে বদলাচ্ছে সমীকরণ, বাড়ছে মার্কিন প্রভাব

প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে প্রভাব বিস্তারকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা এখন ইরান সংকটের অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন নৌবাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বাড়ছে, অন্যদিকে ইরানের নিয়ন্ত্রণ আগের তুলনায় দুর্বল হচ্ছে।

শিপিং ডেটা বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী ৮০ শতাংশের বেশি জাহাজ ওমানের উপকূলীয় বিকল্প রুট ব্যবহার করেছে।

ইরান দীর্ঘদিন ধরে এই রুটের ওপর নিজেদের প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করে আসছে। তবে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতির কারণে অনেক জাহাজ এখন ইরানের চাপ বা হুমকি উপেক্ষা করে বিকল্প পথ বেছে নিচ্ছে।

কেপলারের প্রধান বিশ্লেষক হোমায়ুন ফালাকশাহি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত করছে যে ইরান অন্তত আংশিকভাবে হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জাহাজগুলো ইরান নিয়ন্ত্রিত পথ এড়িয়ে চলায় দেশটির সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সুবিধাও কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো ইরানের ঝুঁকি এড়াতে নতুন কৌশল গ্রহণ করছে।

কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো বড় আকারের তেলবাহী জাহাজ ব্যবহার করছে। কিছু ক্ষেত্রে ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ রেখে নির্দিষ্ট এলাকায় তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে তারা নিরাপদ বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছে।

মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, বর্তমানে হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের নৌপথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় দেড় কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন হচ্ছে। যা সংঘাত শুরুর আগের স্বাভাবিক প্রবাহের কাছাকাছি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। কারণ ইরান এখনো হামলার হুমকি ও সামরিক সক্ষমতার মাধ্যমে প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করছে।

তবে আগের তুলনায় ইরানের প্রভাব কমেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে বাইরে রেখে ওমান ও ইরান নৌপথে চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে, যা ওয়াশিংটনের জন্য নতুন কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

সূত্র: সিএনএন


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ