হরমুজ প্রণালি দিয়ে এক বিলিয়নের বেশি ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, চলতি সপ্তাহে প্রথমবারের মতো সমুদ্রপথে পরিবহনের জন্য ইরানের হাতে কোনো তেল অবশিষ্ট থাকবে না।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের ‘সানডে মর্নিং ফিউচার্স’ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে বেসেন্ট বলেন, ইরানের অবশিষ্ট তেলের একটি বড় অংশ চীনে সরবরাহের অপেক্ষায় রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় দেড় কোটি ব্যারেল ইরানি তেল সরবরাহের অপেক্ষায় আছে।
বেসেন্ট বলেন, “তারা চীনে তেলের শেষ চালানগুলো সরবরাহ করবে। এরপর তাদের আর কিছুই থাকবে না।”
তিনি আরও জানান, বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় দেড় কোটি থেকে দুই কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হচ্ছে। সংঘাত শুরুর আগে এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন করা হতো।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনের পরিমাণ তুলে ধরে বেসেন্ট বলেন, “হিসাবটি হলো, যুক্তরাষ্ট্রের এক বিলিয়ন—এক বিলিয়নেরও বেশি ব্যারেল তেল বেরিয়ে গেছে—ইরানের শূন্য।”
এর আগে অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলের একটি নৌপথ ব্যবহার করে তেলবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য নিরাপদ করিডোর তৈরি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। সে সময় মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, প্রতিদিন প্রায় এক কোটি ব্যারেল তেল ওই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হচ্ছিল।
এদিকে, সেপ্টেম্বর মাসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানির পরিমাণ সংঘাত শুরুর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে অঞ্চলটির মোট তেল রপ্তানি এখনো সংঘাত-পূর্ব সময়ের তুলনায় কম রয়েছে।
বেসেন্টের বক্তব্যে ইরানের তেল পরিবহন ও রপ্তানি পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। তবে ইরানের হাতে সমুদ্রপথে পরিবহনের জন্য কোনো তেল অবশিষ্ট নেই—এমন দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
সূত্র: অ্যাক্সিওস।
মন্তব্যসমূহ