ঢাকা    রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ২১ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

সড়ক আইন ভাঙলে এবার শাস্তির মুখে পড়বেন যাত্রী ও পথচারীরাও

সড়ক আইন ভাঙলে এবার শাস্তির মুখে পড়বেন যাত্রী ও পথচারীরাও
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তাবিত ‘সড়ক নিরাপত্তা আইন, ২০২৬’-এ চালক ও মালিকের পাশাপাশি যাত্রী, পথচারী, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

নতুন আইনের খসড়ায় সড়কে নিয়ম ভঙ্গের ক্ষেত্রে যাত্রী ও পথচারীদেরও শাস্তির আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, চালককে দ্রুত গাড়ি চালাতে উৎসাহ দেওয়া, ঝুঁকিপূর্ণভাবে গাড়িতে ওঠা, গাড়ির জানালা দিয়ে হাত বা মাথা বের করা কিংবা নির্ধারিত আসনের বাইরে বসার মতো অপরাধে যাত্রীকে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা জরিমানা করা হতে পারে।

এ ছাড়া ফুটপাত ব্যবহার না করে চলাচল করলে পথচারীকেও একই পরিমাণ জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। খসড়ায় পথচারীদের ফুটপাত, নির্ধারিত পারাপার স্থান ও নিরাপদ সড়কদ্বীপ ব্যবহারের বিষয়টি বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রয়েছে।

তবে নিরাপদ ফুটপাত, পর্যাপ্ত পারাপার ব্যবস্থা ও সড়কদ্বীপ তৈরির দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপরও দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে শিশুদের সড়ক নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ছয় বছরের কম বয়সী শিশুকে মোটরসাইকেলের সহযাত্রী হিসেবে বহন নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি অপ্রাপ্তবয়স্কদের লাইসেন্স ছাড়া মোটরসাইকেল চালানোর সুযোগ দিলে মালিক বা অভিভাবককে দায়ী করার বিধান রাখা হয়েছে।

নতুন আইনে চালক ও সহযাত্রীর জন্য মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি ১৩৫ সেন্টিমিটারের কম উচ্চতা বা ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুকে গাড়ির সামনের আসনে বসানোর ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব করা হয়েছে।

গতি নিয়ন্ত্রণেও কঠোর বিধান রাখা হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার এবং শহর এলাকায় ৪০ কিলোমিটার নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ জন্য স্পিড ক্যামেরা ও স্বয়ংক্রিয় গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালুর কথাও বলা হয়েছে।

পথচারী পারাপারের স্থান, মোড় ও রেলক্রসিংয়ের নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে ওভারটেকিং নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি কুয়াশা, বৃষ্টি, ধুলা বা জনবহুল এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

ক্লান্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো, এক হাতে স্টিয়ারিং নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের জন্য প্রথমবার সর্বোচ্চ এক মাস কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো শনাক্ত করতে চালকের নিঃশ্বাস, রক্ত বা প্রয়োজনীয় নমুনা পরীক্ষার সুযোগ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। পরীক্ষার জন্য নমুনা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সর্বোচ্চ তিন মাস কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান থাকতে পারে।

নিরাপদ যানবাহন নিশ্চিত করতে এয়ারব্যাগ, সিটবেল্ট, স্পিড গভর্নর, অ্যান্টিলক ব্রেকিং সিস্টেম, জিপিএস ট্র্যাকার, ড্যাশ ক্যামেরা ও ড্রাইভিং মনিটরিং ব্যবস্থার ব্যবহার উৎসাহিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া নতুন গাড়ির নিরাপত্তা যাচাইয়ে নিউ কার অ্যাসেসমেন্ট প্রোগ্রাম এবং সড়কের মান নির্ধারণে স্টার রেটিং ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব রয়েছে। সড়ক নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তা অডিট বাধ্যতামূলক করার কথাও বলা হয়েছে।

খসড়া আইনে যানবাহনের ফিটনেস, চালকের যোগ্যতা, রুট পারমিট, অতিরিক্ত যাত্রী ও পণ্য পরিবহন এবং চালক-কর্মীদের কর্মপরিবেশের বিষয়ে মালিকদের দায় নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।

সড়কের নকশা, নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনায় নিয়ম লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত ‘সড়ক নিরাপত্তা আইন, ২০২৬’ বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে রয়েছে। অনুমোদনের পর এটি পর্যালোচনার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং পরবর্তী ধাপে সংসদে উপস্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আইন করলেই সড়ক নিরাপদ হবে না। কার্যকর প্রয়োগ, উন্নত অবকাঠামো, নিরাপদ ফুটপাত, আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে নতুন আইনটি সড়ক নিরাপত্তায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

ট্যাগ : ট্রাফিক আইন সড়ক নিরাপত্তা আইন

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬


সড়ক আইন ভাঙলে এবার শাস্তির মুখে পড়বেন যাত্রী ও পথচারীরাও

প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তাবিত ‘সড়ক নিরাপত্তা আইন, ২০২৬’-এ চালক ও মালিকের পাশাপাশি যাত্রী, পথচারী, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

নতুন আইনের খসড়ায় সড়কে নিয়ম ভঙ্গের ক্ষেত্রে যাত্রী ও পথচারীদেরও শাস্তির আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, চালককে দ্রুত গাড়ি চালাতে উৎসাহ দেওয়া, ঝুঁকিপূর্ণভাবে গাড়িতে ওঠা, গাড়ির জানালা দিয়ে হাত বা মাথা বের করা কিংবা নির্ধারিত আসনের বাইরে বসার মতো অপরাধে যাত্রীকে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা জরিমানা করা হতে পারে।

এ ছাড়া ফুটপাত ব্যবহার না করে চলাচল করলে পথচারীকেও একই পরিমাণ জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। খসড়ায় পথচারীদের ফুটপাত, নির্ধারিত পারাপার স্থান ও নিরাপদ সড়কদ্বীপ ব্যবহারের বিষয়টি বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রয়েছে।

তবে নিরাপদ ফুটপাত, পর্যাপ্ত পারাপার ব্যবস্থা ও সড়কদ্বীপ তৈরির দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপরও দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে শিশুদের সড়ক নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ছয় বছরের কম বয়সী শিশুকে মোটরসাইকেলের সহযাত্রী হিসেবে বহন নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি অপ্রাপ্তবয়স্কদের লাইসেন্স ছাড়া মোটরসাইকেল চালানোর সুযোগ দিলে মালিক বা অভিভাবককে দায়ী করার বিধান রাখা হয়েছে।

নতুন আইনে চালক ও সহযাত্রীর জন্য মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি ১৩৫ সেন্টিমিটারের কম উচ্চতা বা ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুকে গাড়ির সামনের আসনে বসানোর ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব করা হয়েছে।

গতি নিয়ন্ত্রণেও কঠোর বিধান রাখা হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার এবং শহর এলাকায় ৪০ কিলোমিটার নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ জন্য স্পিড ক্যামেরা ও স্বয়ংক্রিয় গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালুর কথাও বলা হয়েছে।

পথচারী পারাপারের স্থান, মোড় ও রেলক্রসিংয়ের নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে ওভারটেকিং নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি কুয়াশা, বৃষ্টি, ধুলা বা জনবহুল এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

ক্লান্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো, এক হাতে স্টিয়ারিং নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের জন্য প্রথমবার সর্বোচ্চ এক মাস কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো শনাক্ত করতে চালকের নিঃশ্বাস, রক্ত বা প্রয়োজনীয় নমুনা পরীক্ষার সুযোগ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। পরীক্ষার জন্য নমুনা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সর্বোচ্চ তিন মাস কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান থাকতে পারে।

নিরাপদ যানবাহন নিশ্চিত করতে এয়ারব্যাগ, সিটবেল্ট, স্পিড গভর্নর, অ্যান্টিলক ব্রেকিং সিস্টেম, জিপিএস ট্র্যাকার, ড্যাশ ক্যামেরা ও ড্রাইভিং মনিটরিং ব্যবস্থার ব্যবহার উৎসাহিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া নতুন গাড়ির নিরাপত্তা যাচাইয়ে নিউ কার অ্যাসেসমেন্ট প্রোগ্রাম এবং সড়কের মান নির্ধারণে স্টার রেটিং ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব রয়েছে। সড়ক নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তা অডিট বাধ্যতামূলক করার কথাও বলা হয়েছে।

খসড়া আইনে যানবাহনের ফিটনেস, চালকের যোগ্যতা, রুট পারমিট, অতিরিক্ত যাত্রী ও পণ্য পরিবহন এবং চালক-কর্মীদের কর্মপরিবেশের বিষয়ে মালিকদের দায় নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।

সড়কের নকশা, নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনায় নিয়ম লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত ‘সড়ক নিরাপত্তা আইন, ২০২৬’ বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে রয়েছে। অনুমোদনের পর এটি পর্যালোচনার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং পরবর্তী ধাপে সংসদে উপস্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আইন করলেই সড়ক নিরাপদ হবে না। কার্যকর প্রয়োগ, উন্নত অবকাঠামো, নিরাপদ ফুটপাত, আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে নতুন আইনটি সড়ক নিরাপত্তায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ