দেশে চলমান জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের জন্য আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত উদ্যোগকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। সংকটে জনগণের দুর্ভোগের জন্য সরকার দুঃখিত এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, গত ছয় মাসে সরকার বড় সমস্যাগুলো সমাধানে সাধ্যমতো কাজ করেছে। প্রয়োজনের তুলনায় সেই অগ্রগতি হয়তো যথেষ্ট নয়, তবে সরকার সমস্যা মোকাবিলায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
জ্বালানি সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও আমদানি ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের চুক্তি থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে কয়েকটি দেশ রপ্তানিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। অন্য উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করা হলেও জাহাজে তা দেশে পৌঁছাতে সময় লাগছে।
সংকট মোকাবিলায় সরকারকে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি। জনগণের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে এই অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে এবং যত দ্রুত সম্ভব পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে বলে উল্লেখ করেন নজরুল ইসলাম খান।
তবে বর্তমান সংকটের জন্য শুধু আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে দায়ী করেননি তিনি। তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে দেশে গ্যাস ও তেল অনুসন্ধান এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগের ঘাটতি ছিল।
বাপেক্সের প্রসঙ্গ তুলে নজরুল ইসলাম খান বলেন, প্রতিষ্ঠানটি দেশে গ্যাস ও তেল অনুসন্ধানে ভূমিকা রাখলেও গত ১৫ বছরে এর সক্ষমতা দুর্বল হয়েছে। নতুন গ্যাস বা জ্বালানি সম্পদ কাজে লাগাতে অনুসন্ধান, উত্তোলন এবং বিতরণ অবকাঠামো গড়ে তুলতে সময় প্রয়োজন।
জ্বালানি সংকট কাটাতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সরকারের আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি। মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস আমদানির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা।
সংবাদ সম্মেলনে বিদেশে অবস্থানরত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিষয়েও কথা বলেন নজরুল ইসলাম খান। তিনি জানান, বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করতে কূটনৈতিক ও আইনি তৎপরতা চালাচ্ছে সরকার। এ বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তাও নেওয়া হচ্ছে।
সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম নিয়ে তিনি বলেন, সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং পেশাজীবী সংগঠন সরকারকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছে। সরকারের কোনো কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা বা সমালোচনাকেও তারা সহযোগিতার অংশ হিসেবে দেখতে চান।
সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের নিয়োগের বিষয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যোগ্যতা ও সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের উপদেষ্টা, মন্ত্রী, বিএনপির নেতা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্যসমূহ