কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার সরকারি উদ্যোগে নতুন অগ্রগতির কথা জানিয়েছে মালয়েশিয়ার সুলভ মূল্যের বিমান সংস্থা এয়ার এশিয়া। কক্সবাজার ও মালয়েশিয়ার পেনাংয়ের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেন, ‘এয়ার এশিয়া কক্সবাজারে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করবে বলে নিশ্চিত করেছে।’ প্রস্তাবিত এই রুটে কক্সবাজারের সঙ্গে পেনাংয়ের সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপিত হবে।
কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের প্রস্তুতির মধ্যেই এ উদ্যোগের কথা জানা গেল। বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে বিদেশি এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে সরাসরি আন্তর্জাতিক রুট চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার।
মন্ত্রী জানান, শুধু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স নয়, অন্যান্য আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সকেও কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সও কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট পরিচালনা করবে।’
কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
পেনাংয়ের পাশাপাশি আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক রুট চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। কক্সবাজারকে আঞ্চলিক পর্যটন ও বিমান চলাচলের কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে কাঠমান্ডু ও কুনমিংয়ের সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কক্সবাজার-কাঠমান্ডু-কক্সবাজার রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুরও পরিকল্পনা করছি। চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিংয়ের সঙ্গেও কক্সবাজারের সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ চলছে। চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও অভ্যন্তরীণ অঞ্চলের পর্যটকদের আকৃষ্ট করাই এর মূল লক্ষ্য।’
এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গেও সরাসরি বিমান যোগাযোগের মাধ্যমে পর্যটক আকর্ষণের সম্ভাবনা যাচাই করছে সরকার। সরকারের বৃহত্তর পরিকল্পনা হলো কক্সবাজারকে শুধু দেশীয় পর্যটকদের গন্তব্য হিসেবে না রেখে আন্তর্জাতিক পর্যটনের প্রবেশদ্বারে পরিণত করা।
তবে এয়ার এশিয়ার কক্সবাজার-পেনাং ফ্লাইট ঠিক কবে শুরু হবে এবং সপ্তাহে কতটি ফ্লাইট পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
এয়ার এশিয়ার আগ্রহকে কক্সবাজারের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার উপযোগী করতে বিমানবন্দর অবকাঠামো উন্নয়নে বড় ধরনের বিনিয়োগের পাশাপাশি বিদেশি এয়ারলাইন্সকে যুক্ত করার কাজও চলছে বলে জানান তিনি।
এদিকে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তত্ত্বাবধানে কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন যাত্রী টার্মিনালের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত সোমবার থেকে অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের জন্য টার্মিনালটি ব্যবহার করা হচ্ছে।
বেবিচকের সদস্য (অপারেশন্স অ্যান্ড প্ল্যানিং) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মেহবুব খান বাসসকে জানান, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর আগ পর্যন্ত নতুন টার্মিনালে অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের সেবা দেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে এটি সমন্বিত ব্যবস্থায় পরিচালিত হবে।
পরিকল্পিত ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক যাত্রীদের আগমন ও বহির্গমন নতুন টার্মিনালের মাধ্যমে হবে। অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের আগমন হবে বর্তমান টার্মিনাল দিয়ে। অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রীরা নতুন টার্মিনালে চেক-ইনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে পুরোনো টার্মিনালে গিয়ে বিমানে উঠবেন।
প্রায় ১৭ হাজার ৯৫৬ বর্গমিটার আয়তনের নতুন আন্তর্জাতিক টার্মিনাল নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৬২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। টার্মিনালটিতে চেক-ইন কাউন্টার, ইমিগ্রেশন, লাগেজ সরবরাহের বেল্ট, নিরাপত্তা তল্লাশি সরঞ্জাম, লিফট, এসকেলেটর ও বোর্ডিং ব্রিজসহ বিভিন্ন আধুনিক সুবিধা রাখা হয়েছে।
টার্মিনাল সম্প্রসারণের পর বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী পরিচালন সক্ষমতা প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার থেকে বেড়ে ১৮ লাখে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিমানবন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে রানওয়েতেও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগর থেকে প্রায় ৪৩ হেক্টর জমি পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে বেবিচক রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৯ হাজার ফুট থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুট করেছে।
এয়ার এশিয়ার প্রস্তাবিত কক্সবাজার-পেনাং রুট চালুর নির্দিষ্ট তারিখ ও ফ্লাইটসংখ্যা এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
মন্তব্যসমূহ