আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনা সামনে রেখে প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা পর্যালোচনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে নির্বাচনের চূড়ান্ত সময়সূচি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে একটি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন করার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন বিষয়টি পর্যালোচনা করছে বলে জানান তিনি।
ইসি সচিব বলেন, নির্বাচনের সময় নির্ধারণে এসএসসি পরীক্ষা, রমজান এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও জাতীয় দিবসের পাশাপাশি স্থানীয় সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া হবে। সব বিষয় পর্যালোচনা করে একটি সুসংহত ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে কমিশন।
ইউপি নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্র এবং প্রয়োজনীয় নির্বাচনি সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ের সার্বিক পরিস্থিতি ও পরিবেশ মূল্যায়ন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আখতার আহমেদ জানান, গত ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকেও নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচিসহ বিভিন্ন প্রস্তাব উঠে এসেছে।
নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিংবা প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে কি না, সে বিষয়ে কমিশন এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।
ইসি সচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন জনগণের মধ্যে যে উচ্চ প্রত্যাশা তৈরি করেছে, কমিশন সেই মানদণ্ড ধরে রাখার পাশাপাশি আরও উন্নত করতে চায়।
এদিকে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) ‘ব্যালট’ প্রকল্পের আওতায় ইসি সচিবালয়, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা, পুলিশ বাহিনী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের একটি প্রস্তাব নিয়েও প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রশিক্ষণে অপতথ্য, ভুল তথ্য ছড়ানো এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রতিরোধের কৌশল শেখানোর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে এই প্রশিক্ষণ কোনো একটি নির্দিষ্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নয়। এটি স্বাধীন ও ধারাবাহিক সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ। প্রস্তাবটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু ও অংশগ্রহণকারীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনের বৈঠকটি কোন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে হয়েছে, তা নিয়ে সমসাময়িক প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। কয়েকটি প্রতিবেদনে ইউএনডিপি এবং অন্য একটি প্রতিবেদনে ইউনেস্কোর প্রতিনিধিদলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
মন্তব্যসমূহ