ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

নিষেধাজ্ঞায় ইলিশ ধরলেই জেল, বাতিল হবে জেলে কার্ড

নিষেধাজ্ঞায় ইলিশ ধরলেই জেল, বাতিল হবে জেলে কার্ড
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকারে নামলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন। নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গকারী জেলেদের কমপক্ষে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি তাদের জেলে কার্ড বাতিল করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সামনে রেখে আয়োজিত জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এ কথা জানান জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান। জেলা মৎস্য দপ্তর ইলিশ সম্পদ উন্নয়নসংক্রান্ত এ সভার আয়োজন করে।

আগামী ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ এবং ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ থাকবে। ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতেই এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হবে।

চাঁদপুরে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে এবার বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পদ্মা-মেঘনা নদীর মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকায় নজরদারি চালানো হবে।

মা ইলিশ যাতে নদীর সঙ্গে সংযুক্ত খালে প্রবেশ করে শিকারের শিকার না হয়, সে জন্য খালের মুখ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে অভয়াশ্রম এলাকায় পাঁচটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হবে।

অভিযানে প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ড সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

নিষেধাজ্ঞার সময়ে নদীতে মাছ ধরতে না যাওয়া জেলেদের জন্য খাদ্যসহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। চাঁদপুরের ৪১ হাজার ৩৯০ জন জেলের প্রত্যেকে ২৫ কেজি করে খাদ্যসহায়তা পাবেন। একই সময়ে জেলেদের ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ কমাতেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান জানান, নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তবে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মেঘনা উপকূলীয় এলাকার জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে মা ইলিশ রক্ষার নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

‘ইলিশের বাড়ি’ হিসেবে পরিচিত চাঁদপুরের ঐতিহ্য ধরে রাখতে ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করা জরুরি বলেও উল্লেখ করেন জেলা প্রশাসক। টাস্কফোর্সের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় থাকলে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সফল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ট্যাগ : চাঁদপুর ইলিশ

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


নিষেধাজ্ঞায় ইলিশ ধরলেই জেল, বাতিল হবে জেলে কার্ড

প্রকাশের তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকারে নামলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন। নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গকারী জেলেদের কমপক্ষে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি তাদের জেলে কার্ড বাতিল করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সামনে রেখে আয়োজিত জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এ কথা জানান জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান। জেলা মৎস্য দপ্তর ইলিশ সম্পদ উন্নয়নসংক্রান্ত এ সভার আয়োজন করে।

আগামী ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ এবং ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ থাকবে। ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতেই এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হবে।

চাঁদপুরে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে এবার বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পদ্মা-মেঘনা নদীর মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকায় নজরদারি চালানো হবে।

মা ইলিশ যাতে নদীর সঙ্গে সংযুক্ত খালে প্রবেশ করে শিকারের শিকার না হয়, সে জন্য খালের মুখ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে অভয়াশ্রম এলাকায় পাঁচটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হবে।

অভিযানে প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ড সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

নিষেধাজ্ঞার সময়ে নদীতে মাছ ধরতে না যাওয়া জেলেদের জন্য খাদ্যসহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। চাঁদপুরের ৪১ হাজার ৩৯০ জন জেলের প্রত্যেকে ২৫ কেজি করে খাদ্যসহায়তা পাবেন। একই সময়ে জেলেদের ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ কমাতেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান জানান, নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তবে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মেঘনা উপকূলীয় এলাকার জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে মা ইলিশ রক্ষার নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

‘ইলিশের বাড়ি’ হিসেবে পরিচিত চাঁদপুরের ঐতিহ্য ধরে রাখতে ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করা জরুরি বলেও উল্লেখ করেন জেলা প্রশাসক। টাস্কফোর্সের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় থাকলে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সফল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ