ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার তারাপীঠে একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন মেঘালয়ের এবং তিনজন পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলার বাসিন্দা। এ ঘটনায় ২৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সাতজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তারাপীঠ থানার কাছাকাছি ‘বিদেশিনী’ নামের একটি হোটেলে আগুনের সূত্রপাত হয়। ভোরে অধিকাংশ অতিথি ঘুমিয়ে থাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই দ্রুত হোটেল থেকে বের হতে পারেননি।
খবর পেয়ে পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করেন। কয়েক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনার পর হোটেলটি সিলগালা করেছে কর্তৃপক্ষ।
প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে হোটেলের ছাদের দরজা বন্ধ থাকা, জরুরি বহির্গমন পথে তালা থাকা এবং যথাসময়ে ফায়ার অ্যালার্ম সক্রিয় হয়েছিল কি না, এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় হোটেলে থাকা কয়েকজন অতিথি ব্যালকনি এবং পাশের গাছ ব্যবহার করে নিচে নামার চেষ্টা করেন।
ঘটনার পর হোটেল মালিকের ছেলে কল্যাণ পালকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। বীরভূম জেলা প্রশাসন নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশ করেছে। ময়নাতদন্ত শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতারা শোক জানিয়েছেন।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
মন্তব্যসমূহ