ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

টিভি দেখে শেখা জ্ঞানেই বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিলেন প্লাম্বার যাত্রী

ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে ক্যাপ্টেনকে ছুরিকাঘাত

টিভি দেখে শেখা জ্ঞানেই বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিলেন প্লাম্বার যাত্রী
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানের ককপিটে ক্যাপ্টেনকে ছুরিকাঘাতের পর হামলাকারীকে কাবু করতে সহায়তা করেন একদল যাত্রী। পরিস্থিতির একপর্যায়ে বিমানের নিয়ন্ত্রণও সাময়িকভাবে নেন তাদের একজন। পেশায় প্লাম্বার ওই যাত্রী টেলিভিশনে বিমানসংক্রান্ত অনুষ্ঠান দেখে যে সামান্য ধারণা পেয়েছিলেন, সেটিই কাজে লাগিয়ে বিমানটি সামলানোর চেষ্টা করেন।

এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেন ওই যাত্রী ইয়ানিভ হায়ুন। তিনি জানান, বিমানে হামলা হয়েছে বিষয়টি প্রথমে বুঝতে পারেন এক নারীর চিৎকার শুনে। ওই নারী ‘ছুরিকাঘাত’ বলে চিৎকার করছিলেন। একই সময়ে বিমানটিও প্রবলভাবে কেঁপে ওঠে।

ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট ১০৭৩-এর ককপিটে ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে ছুরিকাঘাত করেন সহকারী পাইলট। এরপর তিনি বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় কয়েকজন যাত্রী ককপিটে ঢুকে তাকে কাবু করার চেষ্টা করেন।

হায়ুন জানান, তিনি হামলাকারীকে পেছন থেকে শক্ত করে ধরে ককপিট থেকে সরিয়ে আনেন। এরপর দ্রুত বিমানের নিয়ন্ত্রণের কাছে গিয়ে সেটি সামলানোর চেষ্টা করেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, টেলিভিশনের একটি অনুষ্ঠান দেখে বিমানের নিয়ন্ত্রণ কীভাবে সামলাতে হয়, সে সম্পর্কে তার কিছুটা ধারণা হয়েছিল। ককপিটে গিয়ে তিনি দেখতে পান, দুটি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালানোর মতো অবস্থায় থাকলেও সেখানে কোনো পাইলট ছিলেন না।

হায়ুন বলেন, তিনি বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিজের দিকে টেনে সেটিকে কিছুটা সোজা করার চেষ্টা করেন। পরে তৃতীয় পাইলট ককপিটে এসে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন।

পরবর্তীতে তৃতীয় পাইলট বিমানটিকে সৌদি আরবে নিয়ে যান। সেখানে নিরাপদে অবতরণের পর যাত্রীরা বিমান থেকে নেমে আসেন। আহত ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হামলার সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ইসরায়েলি তদন্তকারীদের দাবি, সন্দেহভাজন ব্যক্তি বিমানটিকে নিচের দিকে নামিয়ে দিয়ে সেটি বিধ্বস্ত করে সবাইকে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন। তবে এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

ঘটনার পর ইসরায়েলে ফিরে আসা ইয়ানিভ হায়ুন ও অন্য যাত্রীদের স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এ সময় হায়ুনের পরনে থাকা শার্টে ঘটনার সময়ের রক্তের দাগও দেখা যায়। নেতানিয়াহু হায়ুনের সঙ্গে সাক্ষাতের একটি ভিডিওও প্রকাশ করেন।

ট্যাগ : ফ্লাইদুবাই ইয়ানিভ হায়ু

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


টিভি দেখে শেখা জ্ঞানেই বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিলেন প্লাম্বার যাত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানের ককপিটে ক্যাপ্টেনকে ছুরিকাঘাতের পর হামলাকারীকে কাবু করতে সহায়তা করেন একদল যাত্রী। পরিস্থিতির একপর্যায়ে বিমানের নিয়ন্ত্রণও সাময়িকভাবে নেন তাদের একজন। পেশায় প্লাম্বার ওই যাত্রী টেলিভিশনে বিমানসংক্রান্ত অনুষ্ঠান দেখে যে সামান্য ধারণা পেয়েছিলেন, সেটিই কাজে লাগিয়ে বিমানটি সামলানোর চেষ্টা করেন।

এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেন ওই যাত্রী ইয়ানিভ হায়ুন। তিনি জানান, বিমানে হামলা হয়েছে বিষয়টি প্রথমে বুঝতে পারেন এক নারীর চিৎকার শুনে। ওই নারী ‘ছুরিকাঘাত’ বলে চিৎকার করছিলেন। একই সময়ে বিমানটিও প্রবলভাবে কেঁপে ওঠে।

ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট ১০৭৩-এর ককপিটে ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে ছুরিকাঘাত করেন সহকারী পাইলট। এরপর তিনি বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় কয়েকজন যাত্রী ককপিটে ঢুকে তাকে কাবু করার চেষ্টা করেন।

হায়ুন জানান, তিনি হামলাকারীকে পেছন থেকে শক্ত করে ধরে ককপিট থেকে সরিয়ে আনেন। এরপর দ্রুত বিমানের নিয়ন্ত্রণের কাছে গিয়ে সেটি সামলানোর চেষ্টা করেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, টেলিভিশনের একটি অনুষ্ঠান দেখে বিমানের নিয়ন্ত্রণ কীভাবে সামলাতে হয়, সে সম্পর্কে তার কিছুটা ধারণা হয়েছিল। ককপিটে গিয়ে তিনি দেখতে পান, দুটি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালানোর মতো অবস্থায় থাকলেও সেখানে কোনো পাইলট ছিলেন না।

হায়ুন বলেন, তিনি বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিজের দিকে টেনে সেটিকে কিছুটা সোজা করার চেষ্টা করেন। পরে তৃতীয় পাইলট ককপিটে এসে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন।

পরবর্তীতে তৃতীয় পাইলট বিমানটিকে সৌদি আরবে নিয়ে যান। সেখানে নিরাপদে অবতরণের পর যাত্রীরা বিমান থেকে নেমে আসেন। আহত ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হামলার সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ইসরায়েলি তদন্তকারীদের দাবি, সন্দেহভাজন ব্যক্তি বিমানটিকে নিচের দিকে নামিয়ে দিয়ে সেটি বিধ্বস্ত করে সবাইকে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন। তবে এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

ঘটনার পর ইসরায়েলে ফিরে আসা ইয়ানিভ হায়ুন ও অন্য যাত্রীদের স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এ সময় হায়ুনের পরনে থাকা শার্টে ঘটনার সময়ের রক্তের দাগও দেখা যায়। নেতানিয়াহু হায়ুনের সঙ্গে সাক্ষাতের একটি ভিডিওও প্রকাশ করেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ