ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে আবারও সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চুক্তি অথবা হামলা—এই দুই পথের একটিতে শিগগিরই পরিস্থিতি গড়াতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখার কথা জানিয়েছে তেহরান।
ইরান প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের উড়িয়ে দেব, অথবা একটি চুক্তি করব। তবে সময় ঘনিয়ে আসছে।”
তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, ইরানকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এগিয়ে আসছে এবং যেকোনো একভাবে চলমান পরিস্থিতির সমাপ্তি ঘটবে।
ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের মধ্যেই বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ এড়িয়ে যায়নি তেহরান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনার সময় ইরান তিনবার হামলার শিকার হলেও দেশটি সংলাপের পথ থেকে সরে যায়নি।
দুই দেশের উত্তেজনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু এখন হরমুজ প্রণালি। ইরান সম্প্রতি কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি প্রস্তাব দিয়েছে। ওই প্রস্তাবের আওতায় সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধে উদ্যোগ নেওয়ার কথা রয়েছে।
ইরানের প্রস্তাবে দেশটির বন্দরের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার, অন্তত ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের জব্দ করা অর্থ ছাড় এবং তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দেওয়ার বিষয়ও রয়েছে।
ট্রাম্প প্রকাশ্যে ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কথা জানিয়েছেন। তবে ইরান জানিয়েছে, কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের একটি পাল্টা প্রস্তাব তেহরানের কাছে পৌঁছেছে এবং সেটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে অনেকাংশে মিল থাকলেও কোন পদক্ষেপ আগে কার্যকর হবে, তা নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে।
এদিকে নতুন করে বড় ধরনের মার্কিন হামলা হলে আগের তুলনায় আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। তিনজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, সম্ভাব্য মার্কিন হামলার জবাবের ধরন ও পরিধি নিয়ে দেশটির জ্যেষ্ঠ সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তারা আলোচনা করছেন।
সূত্রগুলোর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনার বাইরেও মার্কিন সামরিক অভিযানে সহায়তাকারী দেশ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের কিছু স্থাপনাকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনার পরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলোকেও সম্ভাব্য বড় ধরনের মার্কিন হামলার ক্ষেত্রে প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি। তবে এসব পরিকল্পনার বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, মার্কিন বাহিনী ইরানের নৌ ও বিমানবাহিনী, প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, নেতৃত্ব এবং সামরিক-শিল্প সক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস করেছে। তার দাবি, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। তেহরান আলোচনার পথ খোলা রাখার কথা বললেও দুই পক্ষের অবস্থানে এখনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যবধান রয়েছে। ফলে নতুন কোনো সমঝোতা হবে, নাকি সংঘাত আবারও বড় ধরনের সামরিক হামলায় রূপ নেবে—তা এখনো অনিশ্চিত।
সূত্র: আল জাজিরা
মন্তব্যসমূহ