লেবাননের সংসদ মৃত্যুদণ্ডের বিধান বাতিল করে নতুন আইন অনুমোদন করেছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মৃত্যুদণ্ড বিলোপে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া প্রথম দেশ হিসেবে লেবানন নতুন নজির গড়ল। নতুন ব্যবস্থায় মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও কঠোর সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দেশটির ১২৮ সদস্যের সংসদে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবটি ভোটে তোলা হয়। কয়েকটি সংশোধনী যুক্ত করার পর অধিকাংশ আইনপ্রণেতা এর পক্ষে ভোট দেন। তবে হেজবুল্লাহ-সমর্থিত সংসদীয় জোট প্রস্তাবটির পক্ষে অবস্থান নেয়নি।
সংসদে উপস্থিত বিচারমন্ত্রী আদেল নাসার এই সিদ্ধান্তকে লেবাননের জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
লেবাননে সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল ২০০৪ সালের জানুয়ারিতে। এরপর দুই দশকের বেশি সময় ধরে দেশটিতে কার্যত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর স্থগিতাবস্থা ছিল। তবে আদালত বিভিন্ন মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া অব্যাহত রেখেছিল। দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়ের কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ পর্যন্ত ৮৫ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি কারাগারে ছিলেন।
সংসদের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক হেবা মরায়েফের মতে, এই আইন লেবাননের মানবাধিকার পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। দীর্ঘদিনের কার্যকর না করার নীতিকে এবার স্থায়ী আইনি কাঠামোয় নিয়ে আসা হয়েছে।
তবে মৃত্যুদণ্ডের বিকল্প হিসেবে রাখা কঠোর সশ্রম কারাদণ্ড কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দেশটির অর্থনৈতিক সংকট, কারাগারে অতিরিক্ত বন্দি এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে এ ধরনের সাজা বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
একই সময়ে লেবাননের সংসদে একটি সাধারণ ক্ষমা আইন নিয়েও আলোচনা চলছে। আইনটি অনুমোদিত হলে সহিংসতার ঘটনায় দণ্ডিত কিছু ব্যক্তির সাজা কমানো কিংবা মুক্তির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে নিহত সেনা ও নিরাপত্তাকর্মীদের পরিবারের অনেকে এর বিরোধিতা করছেন। তাদের আশঙ্কা, গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের সাজা কমানো হলে ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা
মন্তব্যসমূহ