শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইনকে সম্মান করা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে উন্নয়নকে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন আরাগচি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলো এখনো দারিদ্র্য, ক্ষুধা, বাড়তে থাকা বৈষম্য, ঋণের চাপ, অর্থায়ন ও প্রযুক্তির ঘাটতি এবং পরিবেশগত সংকটের মুখে রয়েছে। সংঘাত, বাণিজ্যিক বাধা, একতরফা নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক শক্তির ব্যবহার এসব সমস্যাকে আরও তীব্র করে তুলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরাগচি বলেন, যুদ্ধ, সংঘাত ও নানা ধরনের চাপের মধ্যে কোনো দেশের উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়া কঠিন। উন্নয়নশীল দেশগুলোর এখন অর্থ, প্রযুক্তি, জ্ঞান এবং অন্য দেশগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন। তাদের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা বা নতুন কোনো বাধা চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।
ইরানের ওপর দীর্ঘদিন ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞারও সমালোচনা করেন আরাগচি। তার দাবি, এসব নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের বাণিজ্য, অর্থনীতি, ওষুধ, প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সাধারণ মানুষের জীবনে নিষেধাজ্ঞার এমন প্রভাবকে ইরান ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাস’ হিসেবে দেখে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জাতিসংঘকে এ ধরনের একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি এসব নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি ও নিঃশর্তভাবে তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
এ সময় ইরানের ওপর চলমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলারও নিন্দা করেন আরাগচি। তার দাবি, এসব হামলায় নারী ও শিশুসহ বহু মানুষ নিহত হয়েছেন এবং বেসামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাস্তুর ইনস্টিটিউট এবং ফার্স প্রদেশের লামের্দের একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্সে হামলার কথা উল্লেখ করেন আরাগচি। তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আশার প্রতীক এসব স্থান এখন রক্তপাত ও ধ্বংসের দৃশ্যে পরিণত হয়েছে।
আরাগচি বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য শান্তি, আন্তর্জাতিক আইন এবং পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ প্রয়োজন। এ কারণে উন্নয়নকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার আহ্বান জানান তিনি।
মন্তব্যসমূহ