কক্সবাজারের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন নিয়ে নানা ধরনের জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি অভিযোগ করেন, পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে আধুনিক ও সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও একটি সংস্থা বারবার উচ্চ আদালতে রিট করে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আসছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজারের উখিয়ার ৪ নম্বর বর্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প পরিদর্শনের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি প্রকল্পটি সরেজমিনে দেখতে এসেছেন। সংশ্লিষ্ট একটি বৈঠকে প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনা হওয়ার পর সেটির বাস্তব অবস্থা পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
মীর শাহে আলম জানান, প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটি কার্যকর ও যৌক্তিক বলে মনে হয়েছে। তবে এর কিছু অংশে পরিবর্তন বা সংযোজনের প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
কক্সবাজার পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, পৌরসভার একটি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প তিনি আগের দিন পরিদর্শন করেছেন। সেখানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বেশ কিছু কাজ এখনো ম্যানুয়ালি করা হচ্ছে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কিছু কাজের ক্ষেত্রে ম্যানুয়াল পদ্ধতির প্রয়োজন হতে পারে।
এ ছাড়া কক্সবাজারে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়েও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান মীর শাহে আলম।
তিনি বলেন, ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশনে চীনের সিএমইসির সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে আনুমানিক ৪৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনেও চীনের উইমীম নামের একটি প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্যতা যাচাই করছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে যুক্তরাজ্যের একটি প্রতিষ্ঠান এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ফিনল্যান্ডের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়ে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
মন্তব্যসমূহ