ঢাকা    শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৩ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাড়াতে তরুণদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান

নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাড়াতে তরুণদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

আসন্ন আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১ সামনে রেখে দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং তরুণদের পরিবেশবান্ধব উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তরুণ, উদ্যোক্তা, গবেষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়নে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে আয়োজিত ‘প্রি-কপ৩১ কনফারেন্স অন রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যান্ড গ্রিন এন্টারপ্রেনারশিপ’ শীর্ষক সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। পরিবেশ ও নদী রক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন (ইআরপিডিএফ) বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এইচ এম সুমনের সভাপতিত্বে দিনব্যাপী সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় পরিবেশবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উদ্যোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে ডিএসসিসি। টেকসই নগর গড়তে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি তরুণ উদ্যোক্তাদের নতুন ধারণা বাস্তবায়নে নীতিগত সহযোগিতা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ড. মো. জিয়াউল হক বলেন, আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নে বাংলাদেশের ন্যায্য অংশ নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক পরিসরে দেশের অবস্থান আরও জোরালো করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তির সুযোগ বাড়ানো এবং পরিবেশবান্ধব ব্যবসার জন্য আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ক্যাপসের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত এবং বৈজ্ঞানিক মনিটরিং ব্যবস্থা অপরিহার্য। নগর এলাকায় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো গেলে পরিবেশের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা মৎস্যসম্পদের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করছে। তার মতে, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ফ্লাই অ্যাশ ও উষ্ণ পানি নদীর পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যার ফলে পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা কমে মাছের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এ পরিস্থিতিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত রূপান্তর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ধীরে ধীরে বন্ধ করা এবং বিদ্যমান স্থাপনাগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিথ্রিইআর-এর উপপরিচালক রউফা খানম বলেন, দেশের সবুজ উদ্ভাবনকে দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর করতে সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি কপভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়নের সরাসরি প্রবাহ প্রয়োজন। একই সঙ্গে ন্যায়সংগত জ্বালানি রূপান্তরের সুফল স্থানীয় পর্যায়ে পৌঁছে দিতে তরুণ গবেষক ও উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে এইচ এম সুমন বলেন, জলবায়ু নীতি প্রণয়নে তরুণদের শুধু মতামত প্রদানকারী হিসেবে রাখলে চলবে না, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াতেও তাদের সক্রিয়ভাবে যুক্ত করতে হবে। পরিবেশ রক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়াকে তিনি সময়ের প্রয়োজন হিসেবে উল্লেখ করেন।

সম্মেলনে নীতিনির্ধারক, পরিবেশবিদ ও গবেষকদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা দুই শতাধিক তরুণ, উদ্যোক্তা, পরিবেশকর্মী ও উন্নয়নকর্মী অংশ নেন।

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাড়াতে তরুণদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান

প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

আসন্ন আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১ সামনে রেখে দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং তরুণদের পরিবেশবান্ধব উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তরুণ, উদ্যোক্তা, গবেষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়নে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে আয়োজিত ‘প্রি-কপ৩১ কনফারেন্স অন রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যান্ড গ্রিন এন্টারপ্রেনারশিপ’ শীর্ষক সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। পরিবেশ ও নদী রক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন (ইআরপিডিএফ) বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এইচ এম সুমনের সভাপতিত্বে দিনব্যাপী সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় পরিবেশবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উদ্যোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে ডিএসসিসি। টেকসই নগর গড়তে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি তরুণ উদ্যোক্তাদের নতুন ধারণা বাস্তবায়নে নীতিগত সহযোগিতা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ড. মো. জিয়াউল হক বলেন, আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নে বাংলাদেশের ন্যায্য অংশ নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক পরিসরে দেশের অবস্থান আরও জোরালো করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তির সুযোগ বাড়ানো এবং পরিবেশবান্ধব ব্যবসার জন্য আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ক্যাপসের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত এবং বৈজ্ঞানিক মনিটরিং ব্যবস্থা অপরিহার্য। নগর এলাকায় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো গেলে পরিবেশের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা মৎস্যসম্পদের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করছে। তার মতে, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ফ্লাই অ্যাশ ও উষ্ণ পানি নদীর পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যার ফলে পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা কমে মাছের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এ পরিস্থিতিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত রূপান্তর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ধীরে ধীরে বন্ধ করা এবং বিদ্যমান স্থাপনাগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিথ্রিইআর-এর উপপরিচালক রউফা খানম বলেন, দেশের সবুজ উদ্ভাবনকে দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর করতে সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি কপভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়নের সরাসরি প্রবাহ প্রয়োজন। একই সঙ্গে ন্যায়সংগত জ্বালানি রূপান্তরের সুফল স্থানীয় পর্যায়ে পৌঁছে দিতে তরুণ গবেষক ও উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে এইচ এম সুমন বলেন, জলবায়ু নীতি প্রণয়নে তরুণদের শুধু মতামত প্রদানকারী হিসেবে রাখলে চলবে না, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াতেও তাদের সক্রিয়ভাবে যুক্ত করতে হবে। পরিবেশ রক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়াকে তিনি সময়ের প্রয়োজন হিসেবে উল্লেখ করেন।

সম্মেলনে নীতিনির্ধারক, পরিবেশবিদ ও গবেষকদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা দুই শতাধিক তরুণ, উদ্যোক্তা, পরিবেশকর্মী ও উন্নয়নকর্মী অংশ নেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ