সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আকামা নবায়ন সংক্রান্ত নতুন সুবিধার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়। নতুন ব্যবস্থার আওতায় কোনো কারণে মূল নিয়োগকর্তা (কফিল) আকামা নবায়ন না করলে, সংশ্লিষ্ট কর্মী দ্রুত অন্য নিয়োগকর্তার অধীনে আকামা নবায়নের সুযোগ পাবেন এবং এতে কোনো আইনগত জটিলতা থাকবে না।
সম্প্রতি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সৌদি আরবের ডেপুটি মিনিস্টার অব হিউম্যান রিসোর্সেস মুহান্নাদ বিন আহমেদ আল-ঈসা এ তথ্য জানান। বৈঠকে সৌদি আরবের ডেপুটি মিনিস্টার অব ফরেন কনস্যুলার ড. মোহাম্মদ এ এম আলশামেরিও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দুই দেশের মধ্যে শ্রমবাজারে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে গৃহকর্মী নিয়োগ চুক্তি, শ্রম দক্ষতা যাচাই কর্মসূচি (এসভিপি) এবং সাধারণ কর্মী নিয়োগসংক্রান্ত চুক্তি পর্যালোচনা ও নবায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি যৌথ কমিশন ও যৌথ কারিগরি কমিটির বৈঠক দ্রুত আয়োজনের আহ্বান জানানো হয়।
এ সময় বাংলাদেশে যৌথ উদ্যোগে ‘সৌদি-বাংলাদেশ যৌথ কারিগরি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়। এর মাধ্যমে কর্মীদের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি, আরবি ভাষা শিক্ষা, সৌদি আইন ও সংস্কৃতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং গমনপূর্ব ওরিয়েন্টেশন কার্যক্রম জোরদারের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।
এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, তথ্যপ্রযুক্তি ও হসপিটালিটি খাতে দক্ষ ও পেশাদার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ সহজ করতে দুই দেশের কারিগরি ও পেশাগত যোগ্যতার পারস্পরিক স্বীকৃতির একটি কাঠামো তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সময়মতো ওয়ার্ক পারমিট ও আকামা ইস্যু এবং নবায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি অতিরিক্ত ফি-সংক্রান্ত কারণে নিয়োগকর্তাদের বিলম্ব দূর করতে সৌদি সরকারের সহযোগিতা কামনা করা হয়।
বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করতে উভয় দেশ কাজ করছে। তিনি কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে সৌদি আরবের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপ উপলক্ষে সৌদি আরবে সম্ভাব্য বাড়তি শ্রমিক চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নারী গৃহকর্মীদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেন।
সৌদি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ থেকে স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, তথ্যপ্রযুক্তি ও হসপিটালিটি খাতে দক্ষ কর্মী নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করে। পাশাপাশি কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় ওয়েজ প্রটেকশন সিস্টেম ও বীমা সুবিধা চালুর বিষয়টি তুলে ধরে এবং সৌদি কারাগারে আটক বাংলাদেশি কর্মীদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেয়।