ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোন হামলায় নিহত নান্দাইলের মামুন

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোন হামলায় নিহত নান্দাইলের মামুন
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

ময়মনসিংহের নান্দাইলের যুবক মামুন মিয়া (২৫) পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। কিন্তু উচ্চ বেতনের চাকরির আশায় যাওয়া সেই যাত্রাই শেষ হয়েছে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সম্মুখসমরে।

পরিবারের অভিযোগ, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে রাশিয়ায় নেওয়ার পর মামুনসহ কয়েকজন বাংলাদেশি যুবককে রুশ সেনাবাহিনীর কাছে তুলে দেওয়া হয়। পরে তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় নিহত হন মামুন।

মামুন নান্দাইল উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের খারুয়া গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়েছেন মা রোকেয়া খাতুন, স্ত্রী মহিমা আক্তার ও দুই সন্তান।

পরিবার জানায়, গত ৭ মে ‘জাবাল-এ নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ নামের একটি এজেন্সির মাধ্যমে সাড়ে আট লাখ টাকা চুক্তিতে রাশিয়া যান মামুন। তাঁর সঙ্গে আরও প্রায় ৩০ জন যুবক ছিলেন।

স্বজনদের দাবি, রাশিয়ায় পৌঁছানোর কয়েক দিনের মধ্যেই তাদের রুশ সেনাবাহিনীর কাছে পাঠানো হয়। পরে অস্ত্র দিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয় তাদের।

মামুনের সঙ্গে রাশিয়ায় যাওয়া ঝিনাইদহের রাজন মিয়া পরিবারকে জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় মামুন নিহত হন। ওই হামলায় তিনিও আহত হন এবং পরে দেশে ফিরে আসেন।

মামুনের স্ত্রী মহিমা আক্তার বলেন, গত ২৬ আগস্ট স্বামীর সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়। তখন মামুন জানিয়েছিলেন, তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে রয়েছেন। অনেক পথ হেঁটে ওয়াই-ফাই সংযোগ পেয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মহিমা বলেন, “দুই সন্তান নিয়ে এখন কীভাবে সংসার চালাব, বুঝতে পারছি না। স্বামীর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা চাই।”

মামুনের মা রোকেয়া খাতুন জানান, ছেলেকে বিদেশ পাঠাতে ব্যাংকঋণ ও ধার করে টাকা জোগাড় করেছিলেন। এখনো সেই ঋণ পরিশোধ করতে পারেননি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. জামাল উদ্দিন বাচ্চু বলেন, দরিদ্র পরিবারের সন্তান মামুন লোভে পড়ে রাশিয়া গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।

এদিকে রাশিয়ায় ৩০ বাংলাদেশি যুবক পাঠানোর অভিযোগে তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করেছে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে জাবাল-এ নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডও রয়েছে।

ট্যাগ : বাংলাদেশি প্রবাসী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোন হামলায় নিহত নান্দাইলের মামুন

প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ময়মনসিংহের নান্দাইলের যুবক মামুন মিয়া (২৫) পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। কিন্তু উচ্চ বেতনের চাকরির আশায় যাওয়া সেই যাত্রাই শেষ হয়েছে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সম্মুখসমরে।

পরিবারের অভিযোগ, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে রাশিয়ায় নেওয়ার পর মামুনসহ কয়েকজন বাংলাদেশি যুবককে রুশ সেনাবাহিনীর কাছে তুলে দেওয়া হয়। পরে তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় নিহত হন মামুন।

মামুন নান্দাইল উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের খারুয়া গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়েছেন মা রোকেয়া খাতুন, স্ত্রী মহিমা আক্তার ও দুই সন্তান।

পরিবার জানায়, গত ৭ মে ‘জাবাল-এ নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ নামের একটি এজেন্সির মাধ্যমে সাড়ে আট লাখ টাকা চুক্তিতে রাশিয়া যান মামুন। তাঁর সঙ্গে আরও প্রায় ৩০ জন যুবক ছিলেন।

স্বজনদের দাবি, রাশিয়ায় পৌঁছানোর কয়েক দিনের মধ্যেই তাদের রুশ সেনাবাহিনীর কাছে পাঠানো হয়। পরে অস্ত্র দিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয় তাদের।

মামুনের সঙ্গে রাশিয়ায় যাওয়া ঝিনাইদহের রাজন মিয়া পরিবারকে জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় মামুন নিহত হন। ওই হামলায় তিনিও আহত হন এবং পরে দেশে ফিরে আসেন।

মামুনের স্ত্রী মহিমা আক্তার বলেন, গত ২৬ আগস্ট স্বামীর সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়। তখন মামুন জানিয়েছিলেন, তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে রয়েছেন। অনেক পথ হেঁটে ওয়াই-ফাই সংযোগ পেয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মহিমা বলেন, “দুই সন্তান নিয়ে এখন কীভাবে সংসার চালাব, বুঝতে পারছি না। স্বামীর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা চাই।”

মামুনের মা রোকেয়া খাতুন জানান, ছেলেকে বিদেশ পাঠাতে ব্যাংকঋণ ও ধার করে টাকা জোগাড় করেছিলেন। এখনো সেই ঋণ পরিশোধ করতে পারেননি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. জামাল উদ্দিন বাচ্চু বলেন, দরিদ্র পরিবারের সন্তান মামুন লোভে পড়ে রাশিয়া গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।

এদিকে রাশিয়ায় ৩০ বাংলাদেশি যুবক পাঠানোর অভিযোগে তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করেছে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে জাবাল-এ নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডও রয়েছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ