ঢাকা    রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ ৩০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

কৃষকের আয় বাড়াতে এগ্রিভোল্টাইক ব্যবহারের প্রস্তাব পরিবেশমন্ত্রীর

কৃষকের আয় বাড়াতে এগ্রিভোল্টাইক ব্যবহারের প্রস্তাব পরিবেশমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

একই জমিতে কৃষিকাজ চালু রেখে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি করতে এগ্রিভোল্টাইক পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

তিনি বলেছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে এগ্রিভোল্টাইক কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ ধরনের প্রতিটি প্রকল্পে খাদ্যনিরাপত্তা, কৃষকের অধিকার, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সুফলের ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে।

বুধবার রাজধানীর ওয়েস্টিন ঢাকায় আয়োজিত জাতীয় এগ্রিভোল্টাইকস কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালায় সরকারি কর্মকর্তা, গবেষক, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, আর্থিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা, লবণাক্ততা, তাপপ্রবাহ এবং অনিয়মিত বৃষ্টিপাতসহ নানা জলবায়ু ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এসব সমস্যা কৃষি, পানিসম্পদ, অবকাঠামো ও গ্রামীণ জীবিকার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

একই সঙ্গে দেশে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানির চাহিদা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত না করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পথ খুঁজতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী জানান, এনডিসি ৩.০-এর আওতায় ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশের মোট জ্বালানির ২৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সীমিত জমি ও উচ্চ জনঘনত্বের কারণে বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প এমনভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে কৃষিজমির সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতা তৈরি না হয়।

তিনি বলেন, এগ্রিভোল্টাইক ব্যবস্থায় একই জমিতে সৌর প্যানেল স্থাপন এবং কৃষি উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। যথাযথ পরিকল্পনা থাকলে এতে পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি বাষ্পীভবন কমানো, পানির ব্যবহার দক্ষ করা এবং কৃষকের অতিরিক্ত আয় নিশ্চিত করা যাবে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি ২০২৫-এ এগ্রিভোল্টাইককে সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি প্রকল্পে কৃষি কার্যক্রম বাস্তবভাবে চালু রাখতে হবে। সৌর প্যানেলের উচ্চতা, দূরত্ব ও অবস্থান এমন হতে হবে, যাতে ফসল উৎপাদন বাধাগ্রস্ত না হয়।

তিনি আরও বলেন, কৃষকদের বাদ দিয়ে কোনো এগ্রিভোল্টাইক প্রকল্প সফল হবে না। প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে কৃষক যেন জমিতে প্রবেশাধিকার হারিয়ে না ফেলেন কিংবা সাময়িক সামান্য অর্থের বিনিময়ে দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

এ ধরনের প্রকল্পে কৃষকের জীবিকা সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি নিয়মিত ও পূর্বানুমানযোগ্য অতিরিক্ত আয়ের ব্যবস্থা করতে হবে বলেও জানান তিনি।

এগ্রিভোল্টাইক থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সৌরসেচ, হিমাগার, ফসল শুকানো, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং অন্যান্য গ্রামীণ উৎপাদনমূলক কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে গ্রিড সংযোগ দুর্বল এমন এলাকার জ্বালানি নিরাপত্তাও বাড়বে।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম। তিনি বলেন, এগ্রিভোল্টাইক সম্প্রসারণে কার্যকর অর্থায়ন ও ব্যবসায়িক মডেল তৈরি করা জরুরি।

প্যারিস চুক্তির অনুচ্ছেদ ৬ এবং জয়েন্ট ক্রেডিটিং মেকানিজমের মতো ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্বন অর্থায়ন পাওয়া যেতে পারে বলে জানান তিনি। তবে এসব ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, পরিবেশগত মান, অতিরিক্ততা এবং একই কার্বন হ্রাস দুইবার গণনা না করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল এনভায়রনমেন্টাল স্ট্র্যাটেজিস ও এইচএসবিসি বাংলাদেশ যৌথভাবে কর্মশালাটির আয়োজন করে। এতে সহযোগিতা করে পরিবেশ অধিদপ্তর, টেরা জাপান ও ব্রাইট গ্রিন এনার্জি ফাউন্ডেশন।

ট্যাগ : সৌরবিদ্যুৎ এগ্রিভোল্টাইক নবায়নযোগ্য জ্বালানি

বাংলা ভিউজ

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কৃষকের আয় বাড়াতে এগ্রিভোল্টাইক ব্যবহারের প্রস্তাব পরিবেশমন্ত্রীর

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

একই জমিতে কৃষিকাজ চালু রেখে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি করতে এগ্রিভোল্টাইক পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

তিনি বলেছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে এগ্রিভোল্টাইক কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ ধরনের প্রতিটি প্রকল্পে খাদ্যনিরাপত্তা, কৃষকের অধিকার, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সুফলের ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে।

বুধবার রাজধানীর ওয়েস্টিন ঢাকায় আয়োজিত জাতীয় এগ্রিভোল্টাইকস কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালায় সরকারি কর্মকর্তা, গবেষক, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, আর্থিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা, লবণাক্ততা, তাপপ্রবাহ এবং অনিয়মিত বৃষ্টিপাতসহ নানা জলবায়ু ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এসব সমস্যা কৃষি, পানিসম্পদ, অবকাঠামো ও গ্রামীণ জীবিকার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

একই সঙ্গে দেশে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানির চাহিদা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত না করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পথ খুঁজতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী জানান, এনডিসি ৩.০-এর আওতায় ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশের মোট জ্বালানির ২৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সীমিত জমি ও উচ্চ জনঘনত্বের কারণে বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প এমনভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে কৃষিজমির সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতা তৈরি না হয়।

তিনি বলেন, এগ্রিভোল্টাইক ব্যবস্থায় একই জমিতে সৌর প্যানেল স্থাপন এবং কৃষি উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। যথাযথ পরিকল্পনা থাকলে এতে পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি বাষ্পীভবন কমানো, পানির ব্যবহার দক্ষ করা এবং কৃষকের অতিরিক্ত আয় নিশ্চিত করা যাবে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি ২০২৫-এ এগ্রিভোল্টাইককে সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি প্রকল্পে কৃষি কার্যক্রম বাস্তবভাবে চালু রাখতে হবে। সৌর প্যানেলের উচ্চতা, দূরত্ব ও অবস্থান এমন হতে হবে, যাতে ফসল উৎপাদন বাধাগ্রস্ত না হয়।

তিনি আরও বলেন, কৃষকদের বাদ দিয়ে কোনো এগ্রিভোল্টাইক প্রকল্প সফল হবে না। প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে কৃষক যেন জমিতে প্রবেশাধিকার হারিয়ে না ফেলেন কিংবা সাময়িক সামান্য অর্থের বিনিময়ে দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

এ ধরনের প্রকল্পে কৃষকের জীবিকা সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি নিয়মিত ও পূর্বানুমানযোগ্য অতিরিক্ত আয়ের ব্যবস্থা করতে হবে বলেও জানান তিনি।

এগ্রিভোল্টাইক থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সৌরসেচ, হিমাগার, ফসল শুকানো, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং অন্যান্য গ্রামীণ উৎপাদনমূলক কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে গ্রিড সংযোগ দুর্বল এমন এলাকার জ্বালানি নিরাপত্তাও বাড়বে।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম। তিনি বলেন, এগ্রিভোল্টাইক সম্প্রসারণে কার্যকর অর্থায়ন ও ব্যবসায়িক মডেল তৈরি করা জরুরি।

প্যারিস চুক্তির অনুচ্ছেদ ৬ এবং জয়েন্ট ক্রেডিটিং মেকানিজমের মতো ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্বন অর্থায়ন পাওয়া যেতে পারে বলে জানান তিনি। তবে এসব ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, পরিবেশগত মান, অতিরিক্ততা এবং একই কার্বন হ্রাস দুইবার গণনা না করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল এনভায়রনমেন্টাল স্ট্র্যাটেজিস ও এইচএসবিসি বাংলাদেশ যৌথভাবে কর্মশালাটির আয়োজন করে। এতে সহযোগিতা করে পরিবেশ অধিদপ্তর, টেরা জাপান ও ব্রাইট গ্রিন এনার্জি ফাউন্ডেশন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ