নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাড়াতে তিন নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর
দেশের জ্বালানিসংকট মোকাবিলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।একই সঙ্গে দেশে সোলার ইনভার্টার উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানিতে সরকারি সহায়তা দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের কাছে সৌরবিদ্যুৎ সাশ্রয়ী, সহজলভ্য ও লাভজনক করতে একটি কার্যকর অর্থনৈতিক মডেল তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সৌরবিদ্যুৎবিষয়ক এক সভায় এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব মোস্তফা জুলফিকার হাসান এ বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান।[BANGVIEWS-POST:3107]তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণে প্রধানমন্ত্রী তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন। এর মধ্যে সরকারি ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপন, স্থানীয়ভাবে ইনভার্টার উৎপাদন সহজ করা এবং সাধারণ মানুষের জন্য সৌরবিদ্যুতের গ্রহণযোগ্য অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি করা রয়েছে।প্রাথমিক পর্যায়ে বঙ্গভবন, তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবন, বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা কমিশন ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় সৌর প্যানেল বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি ভবনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার শুরু হলে সাধারণ মানুষও এই প্রযুক্তি গ্রহণে উৎসাহিত হবে। এতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব শক্তির ব্যবহারও বাড়বে।বৈঠকে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও ওয়ালটন গ্রুপ আবাসিক ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপন এবং উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে পৃথক উপস্থাপনা দেয়।উপস্থাপনায় বলা হয়, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। সৌরশক্তির মাধ্যমে এয়ার কন্ডিশনার, ফ্যান, লিফটসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালানোর অর্থনৈতিক ও ব্যবহারিক সুবিধাগুলো সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।[BANGVIEWS-POST:3106]সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব এবং প্রাণ-আরএফএল ও ওয়ালটনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।এদিকে দেশবাসীকে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘আসুন, আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি আমাদের দেশটাকে পরিষ্কার ও সুন্দর রাখতে। যা নিশ্চিত করবে আমাদের আগামী দিনের বংশধরদের জন্য একটি সুস্থ দেশ, সুস্থ পরিবেশ।’প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়েক দশক আগের তুলনায় বর্তমানে ঢাকা শহরসহ জেলা, উপজেলা ও গ্রামের রাস্তাঘাট এবং বাজারে প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট, ব্যবহৃত টিস্যুসহ বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা যত্রতত্র ফেলার প্রবণতা বেড়েছে।নির্দিষ্ট স্থানে আবর্জনা ফেলা এবং সঠিক পদ্ধতিতে তা ধ্বংস করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এতে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর রাখা সম্ভব হবে।সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের গভর্নিং বোর্ডের সভাও অনুষ্ঠিত হয়।[BANGVIEWS-POST:3104]সভায় দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল সম্প্রসারণ, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা জানান, বৈঠকে বেজার গভর্নিং বোর্ডের নবম সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে।এ ছাড়া নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন, বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর কার্যক্রম মূল্যায়ন এবং সরকারি মালিকানাধীন অব্যবহৃত শিল্পসম্পদ কার্যকরভাবে ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশের বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।সচিবালয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান-কুর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।প্রধানমন্ত্রী জাহাজ নির্মাণ, খেলনা, ইলেকট্রনিকস, টেলিযোগাযোগ, অটোমোবাইল এবং সেমিকন্ডাক্টর খাতে দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের প্রস্তাব দেন।[BANGVIEWS-POST:3105]তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার কোনো প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে জাহাজ নির্মাণশিল্পে বিনিয়োগে আগ্রহী হলে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে।সাক্ষাতে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।