দেশের বাজারে সুগন্ধি চালের বাড়তি দাম নিয়ন্ত্রণে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম জানিয়েছেন, শুধু সংকটের সময় নয়, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ভোগ্যপণ্যের দাম রাখতে নিয়মিত বাজার তদারকি করা হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে সুগন্ধি চালের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে পোলাও ও চিনিগুঁড়া চালের দাম কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ২৩০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার এরই মধ্যে সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমিয়েছে। এরপরও বাজারে প্রত্যাশিত হারে দাম কমেনি।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে ৪৫ হাজার ২৭০ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে আগস্টের শেষ পর্যন্ত রপ্তানি হয়েছে মাত্র ২ হাজার ৪১৯ টন। পরে অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে অনুমোদিত রপ্তানি কোটা অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়।
সুগন্ধি চালের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে হোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসাতেও। চালের সঙ্গে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও ভোজ্যতেলের খরচ বাড়ায় পোলাও-বিরিয়ানিসহ বিভিন্ন খাবারের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদের একটি অংশের অভিযোগ, বড় ব্যবসায়ী ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর মজুতের কারণে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। তাদের মতে, নিয়মিত ও কার্যকর নজরদারি হলে দাম দ্রুত কমানো সম্ভব।
খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, দেশে খাদ্যশস্যের মজুত ভালো অবস্থায় রয়েছে। সুগন্ধি চালের উৎপাদন ও সরবরাহ নিয়েও বড় ধরনের সংকট নেই। ফলে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) মনে করছে, সাময়িক অভিযান দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। দাম কেন বাড়ছে, সরবরাহ ব্যবস্থার কোন পর্যায়ে সমস্যা হচ্ছে এবং কারা এর সুবিধা নিচ্ছে, তা সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে খুঁজে বের করার তাগিদ দিয়েছে সংগঠনটি।
ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজারে স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা ও সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত থাকলেই সুগন্ধি চালসহ নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।