দেশের এভিয়েশন খাতের সম্প্রসারণে ইউএস-বাংলাসহ বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর বিনিয়োগ সহজ করতে প্রয়োজনীয় বিধিমালা পরিবর্তন এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর আশ্বাস দিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কুর্মিটোলার ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে বণিক বার্তা আয়োজিত ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বমানের এভিয়েশন’ শীর্ষক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
বিমানমন্ত্রী বলেন, এয়ারলাইন্সগুলো সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন। ব্যবসা পরিচালনায় কোন নিয়ম বাধা তৈরি করছে এবং কীভাবে বিনিয়োগ আরও সহজ করা যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া হবে।
দেশে উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি। বর্তমানে জটিল কারিগরি সমস্যায় অনেক উড়োজাহাজ মেরামতের জন্য ভারত বা সিঙ্গাপুরে পাঠাতে হয়। দেশে পূর্ণাঙ্গ এমআরও সুবিধা তৈরি করা গেলে এ নির্ভরতা কমবে বলে মনে করেন মন্ত্রী।
ইউএস-বাংলার বহরে ২১টি বোয়িং উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনাকেও ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। ইউএস-বাংলা ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ লিজের মাধ্যমে এসব উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা জানিয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, শুধু বেসরকারি এয়ারলাইন্স নয়, জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সক্ষমতা বাড়াতেও সরকার কাজ করবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের এয়ারলাইন্সগুলোর বহর বড় হলে বিমানবন্দরের সক্ষমতা নিয়েও নতুন পরিকল্পনা করতে হবে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হলে বছরে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ যাত্রীকে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।
ভবিষ্যতে যাত্রী ও ফ্লাইটের চাপ এ সক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেলে নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের বিষয়ও বিবেচনা করা হতে পারে বলে জানান বিমানমন্ত্রী।
সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ। এতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন, টোটাল এয়ার সার্ভিসেস লিমিটেডের চেয়ারম্যান কে এম মুজিবুল হকসহ এভিয়েশন খাতের নীতিনির্ধারক, বিশেষজ্ঞ ও উদ্যোক্তারা অংশ নেন।