ঢাকা    রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ ৩০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

মৃত্যুদণ্ডের রায় মাথায় নিয়েই দেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা

মৃত্যুদণ্ডের রায় মাথায় নিয়েই দেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা
ফাইল ছবি
ফলো করুন

গ্রেপ্তার, কারাবাস কিংবা প্রাণহানির আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বার্তা সংস্থা এএফপিকে ই-মেইলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশে ফিরলে কী ধরনের পরিণতির মুখোমুখি হতে পারেন, সে বিষয়ে তিনি সম্পূর্ণ সচেতন। তারপরও দেশের মানুষের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশে ফিরতে চান।

২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে। বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের দিকে অগ্রসর হলে তিনি হেলিকপ্টারে দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। এর মধ্য দিয়ে তার টানা ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।

জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টের আন্দোলন দমনে পরিচালিত অভিযানে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারেন। তবে শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের ওপর অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন। তার বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের হত্যায় উসকানি, হত্যার নির্দেশ দেওয়া এবং সহিংসতা ঠেকাতে ব্যর্থতার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

শেখ হাসিনা রায়টিকে প্রত্যাখ্যান করে একে রাজনৈতিক প্রতিশোধমূলক বিচার হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার দাবি, বিচারিক প্রক্রিয়াটি নিরপেক্ষ ছিল না এবং তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের যথাযথ সুযোগ দেওয়া হয়নি।

বর্তমানে ভারতের একটি অপ্রকাশিত স্থানে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ সরকার তাকে ফেরত দিতে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন জানিয়েছে। ভারত বলেছে, আবেদনটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

তবে দেশে ফেরার সিদ্ধান্তের সঙ্গে প্রত্যর্পণ আবেদনের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন শেখ হাসিনা। তিনি জানান, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তার সঙ্গে প্রত্যর্পণ নিয়ে কোনো আলোচনা করেনি এবং দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত তিনি নিজেই নিয়েছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ভারতে তিনি সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে অবস্থান করছেন। দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার বিষয়ে নিজের প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন তিনি।

মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের দমন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তার দাবি, তার সরকারের বিরুদ্ধে আনা অনেক অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রচার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের সময়ে কোনো অভিযোগ উঠলে তা তদন্ত করা হয়েছে এবং অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ নাকচ করে শেখ হাসিনা দাবি করেন, তার সরকার পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করেছিল এবং সর্বোচ্চ ধৈর্য দেখিয়েছিল।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই আন্দোলন শুধু শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ ছিল না। সরকার উৎখাতের লক্ষ্য নিয়ে পরিকল্পিত সহিংসতা, অপপ্রচার ও সংগঠিত তৎপরতা চালানো হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

আন্দোলনে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। তবে সরকারের ভূমিকার জন্য সরাসরি ক্ষমা চাননি।

সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়ে কোনো অনুশোচনা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার সিদ্ধান্ত কোনো একজন ব্যক্তির একক সিদ্ধান্ত নয়। পুরো পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট বাদ দিয়ে একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তকে আলাদাভাবে বিচার করা ঠিক হবে না।

দেশে ফিরে আবার সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ নেবেন কি না, সে বিষয়ে শেখ হাসিনা স্পষ্ট কোনো উত্তর দেননি। তিনি বলেন, ক্ষমতায় যাওয়া তার মূল লক্ষ্য নয়, মানুষের সেবা করাই তার উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা নতুন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত আলোচনার জন্ম দিতে পারে। তবে তিনি ঠিক কবে এবং কী প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরবেন, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানাননি।

ট্যাগ : আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনা

বাংলা ভিউজ

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মৃত্যুদণ্ডের রায় মাথায় নিয়েই দেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

গ্রেপ্তার, কারাবাস কিংবা প্রাণহানির আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বার্তা সংস্থা এএফপিকে ই-মেইলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশে ফিরলে কী ধরনের পরিণতির মুখোমুখি হতে পারেন, সে বিষয়ে তিনি সম্পূর্ণ সচেতন। তারপরও দেশের মানুষের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশে ফিরতে চান।

২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে। বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের দিকে অগ্রসর হলে তিনি হেলিকপ্টারে দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। এর মধ্য দিয়ে তার টানা ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।

জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টের আন্দোলন দমনে পরিচালিত অভিযানে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারেন। তবে শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের ওপর অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন। তার বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের হত্যায় উসকানি, হত্যার নির্দেশ দেওয়া এবং সহিংসতা ঠেকাতে ব্যর্থতার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

শেখ হাসিনা রায়টিকে প্রত্যাখ্যান করে একে রাজনৈতিক প্রতিশোধমূলক বিচার হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার দাবি, বিচারিক প্রক্রিয়াটি নিরপেক্ষ ছিল না এবং তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের যথাযথ সুযোগ দেওয়া হয়নি।

বর্তমানে ভারতের একটি অপ্রকাশিত স্থানে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ সরকার তাকে ফেরত দিতে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন জানিয়েছে। ভারত বলেছে, আবেদনটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

তবে দেশে ফেরার সিদ্ধান্তের সঙ্গে প্রত্যর্পণ আবেদনের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন শেখ হাসিনা। তিনি জানান, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তার সঙ্গে প্রত্যর্পণ নিয়ে কোনো আলোচনা করেনি এবং দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত তিনি নিজেই নিয়েছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ভারতে তিনি সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে অবস্থান করছেন। দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার বিষয়ে নিজের প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন তিনি।

মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের দমন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তার দাবি, তার সরকারের বিরুদ্ধে আনা অনেক অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রচার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের সময়ে কোনো অভিযোগ উঠলে তা তদন্ত করা হয়েছে এবং অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ নাকচ করে শেখ হাসিনা দাবি করেন, তার সরকার পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করেছিল এবং সর্বোচ্চ ধৈর্য দেখিয়েছিল।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই আন্দোলন শুধু শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ ছিল না। সরকার উৎখাতের লক্ষ্য নিয়ে পরিকল্পিত সহিংসতা, অপপ্রচার ও সংগঠিত তৎপরতা চালানো হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

আন্দোলনে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। তবে সরকারের ভূমিকার জন্য সরাসরি ক্ষমা চাননি।

সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়ে কোনো অনুশোচনা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার সিদ্ধান্ত কোনো একজন ব্যক্তির একক সিদ্ধান্ত নয়। পুরো পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট বাদ দিয়ে একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তকে আলাদাভাবে বিচার করা ঠিক হবে না।

দেশে ফিরে আবার সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ নেবেন কি না, সে বিষয়ে শেখ হাসিনা স্পষ্ট কোনো উত্তর দেননি। তিনি বলেন, ক্ষমতায় যাওয়া তার মূল লক্ষ্য নয়, মানুষের সেবা করাই তার উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা নতুন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত আলোচনার জন্ম দিতে পারে। তবে তিনি ঠিক কবে এবং কী প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরবেন, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানাননি।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ