ইয়েমেনের হুথি নিয়ন্ত্রিত হোদেইদা প্রদেশে বিমান হামলা চালানোর কথা স্বীকার করেছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। জোটের দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি হিসেবে ব্যবহৃত হুথিদের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে হামলাগুলো চালানো হয়। হুথি পরিচালিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, সৌদি আরবকে এ হামলার জন্য ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, হোদেইদা প্রদেশে হুথিদের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আনুপাতিক হামলা চালানো হয়েছে। এসব স্থাপনা বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বা হুমকি সৃষ্টিতে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
হুথি-সংশ্লিষ্ট আল মাসিরাহ টেলিভিশন জানিয়েছে, হোদেইদা শহরে রাষ্ট্রীয় টেলিযোগাযোগ সংস্থার স্থাপনা এবং ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলের কামারান দ্বীপে হামলা হয়েছে। কামারান দ্বীপের হামলায় একজন নারী আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে সংবাদমাধ্যমটি।
অন্যদিকে সৌদি জোট বলেছে, হোদেইদা বন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়নি। হোদেইদা, রাস ইসা ও সালিফসহ ইয়েমেনের বন্দরগুলো নৌ চলাচলের জন্য খোলা রয়েছে এবং সেখানে বাণিজ্যিক জাহাজ প্রবেশ করছে।
জোটটি আরও জানিয়েছে, সৌদি জাহাজ ও স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হুথিরা কথিত শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে তারা।
হুথি নিয়ন্ত্রিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এ হামলার মাধ্যমে সৌদি আরব ‘উত্তেজনার জবাবে উত্তেজনা’ সৃষ্টির নতুন পর্যায় শুরু করেছে। পরবর্তী পরিস্থিতির দায় রিয়াদকেই বহন করতে হবে বলে দাবি করেছে তারা।
এর আগে সৌদি আরবের ওপর সামুদ্রিক অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেয় হুথিরা। লোহিত সাগরে সৌদি মালিকানাধীন ও সৌদি পতাকাবাহী জাহাজে একাধিক হামলার দাবিও করেছে গোষ্ঠীটি। শুক্রবার একটি সৌদি বাণিজ্যিক জাহাজের কাঠামোয় সামান্য ক্ষতি হলেও জাহাজটি গন্তব্যের দিকে যাত্রা অব্যাহত রাখে এবং নাবিকেরা নিরাপদ ছিলেন বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
হোদেইদা বন্দর হুথি নিয়ন্ত্রিত উত্তর ইয়েমেনে বাণিজ্যিক পণ্য ও মানবিক সহায়তা প্রবেশের অন্যতম প্রধান পথ। এ কারণে বন্দর এলাকায় সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে দেশটির মানবিক পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স