ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ ২৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

বড় শহর নয়, মানবিক ও পরিবেশবান্ধব নগর গড়তে চায় সরকার: মাহ্দী আমিন

বড় শহর নয়, মানবিক ও পরিবেশবান্ধব নগর গড়তে চায় সরকার: মাহ্দী আমিন
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণ ও পরিবেশগত বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় শুধু বড় শহর নির্মাণ নয়, বরং নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নে মানবিক ও পরিবেশবান্ধব নগরব্যবস্থা গড়ে তোলাকে সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা এবং তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।

সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে দুই দিনব্যাপী ‘ন্যাশনাল আরবান ফোরাম-২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে ‘ফ্রম পলিসি টু অ্যাকশন’ শীর্ষক অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার উপদেষ্টার দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

মাহ্দী আমিন বলেন, একটি শহরের উন্নয়নকে শুধু উঁচু ভবন, প্রশস্ত সড়ক কিংবা অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে বিচার করা উচিত নয়। নগরায়ণের কারণে সাধারণ মানুষের জীবন কতটা সহজ ও উন্নত হয়েছে এবং সেই পরিবর্তন কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে, সেটিই উন্নয়নের প্রধান সূচক হওয়া প্রয়োজন।

নাগরিকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সরকার সমন্বিত বা ‘৩৬০ ডিগ্রি হলিস্টিক অ্যাপ্রোচ’ অনুসরণ করতে চায় বলেও জানান তিনি।

দেশের অর্থনীতিতে নগর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, জাতীয় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ নগরাঞ্চল থেকে আসে। অথচ দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ এসব এলাকায় বসবাস করলেও দ্রুত নগরায়ণের কারণে আবাসন, গণপরিবহন, পানি, স্যানিটেশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশের ওপর চাপ বাড়ছে।

এর সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন, সামাজিক বৈষম্য এবং জলবায়ুজনিত অভিবাসনের মতো সমস্যাও নগরজীবনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সরকার সবার জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর কাঠামো গড়ে তুলতে কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, নাগরিকদের নিরাপদ পানি, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, সাশ্রয়ী শিক্ষা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, আধুনিক গণপরিবহন ও সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এসব সুবিধাকে তিনি নাগরিকদের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন।

নগর নীতিমালা বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকার, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বেসরকারি খাত, গবেষক এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন মাহ্দী আমিন।

তিনি বলেন, নগরের সমস্যাগুলো প্রশাসনিক সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাই শুধু কেন্দ্র থেকে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নদী-নালা, খাল-বিল ও সবুজ এলাকা সংরক্ষণের আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, এ ধরনের উদ্যোগ জলাবদ্ধতা ও অতিরিক্ত তাপদাহ মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নগর ব্যবস্থাপনায় ব্যবহার করা হলেও এগুলোকে মূল লক্ষ্য নয়, বরং নাগরিকসেবা উন্নয়নের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রযুক্তিনির্ভরতার পাশাপাশি শহরকে প্রকৃত অর্থে মানুষের বসবাসের উপযোগী করে তোলার ওপর জোর দেন মাহ্দী আমিন।

দীর্ঘ সময়ের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা দ্রুত পরিবর্তন করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার দৃঢ়। সব অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে নগর সমস্যার সমাধানে সরকার কাজ করে যাবে।

তিনি আরও বলেন, আজকের পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্তই ভবিষ্যতের বাংলাদেশের নগরগুলোর চেহারা নির্ধারণ করবে।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, ইউএনডিপি বাংলাদেশের ডেপুটি আবাসিক প্রতিনিধি সোনালী দয়ারত্নেসহ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী, গবেষক, নগর পরিকল্পনাবিদ ও সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজনটি স্থানীয় সরকার বিভাগ, ইউএনডিপি বাংলাদেশ এবং যুক্তরাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়।

ট্যাগ : মাহদী আমিন

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বড় শহর নয়, মানবিক ও পরিবেশবান্ধব নগর গড়তে চায় সরকার: মাহ্দী আমিন

প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণ ও পরিবেশগত বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় শুধু বড় শহর নির্মাণ নয়, বরং নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নে মানবিক ও পরিবেশবান্ধব নগরব্যবস্থা গড়ে তোলাকে সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা এবং তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।

সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে দুই দিনব্যাপী ‘ন্যাশনাল আরবান ফোরাম-২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে ‘ফ্রম পলিসি টু অ্যাকশন’ শীর্ষক অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার উপদেষ্টার দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

মাহ্দী আমিন বলেন, একটি শহরের উন্নয়নকে শুধু উঁচু ভবন, প্রশস্ত সড়ক কিংবা অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে বিচার করা উচিত নয়। নগরায়ণের কারণে সাধারণ মানুষের জীবন কতটা সহজ ও উন্নত হয়েছে এবং সেই পরিবর্তন কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে, সেটিই উন্নয়নের প্রধান সূচক হওয়া প্রয়োজন।

নাগরিকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সরকার সমন্বিত বা ‘৩৬০ ডিগ্রি হলিস্টিক অ্যাপ্রোচ’ অনুসরণ করতে চায় বলেও জানান তিনি।

দেশের অর্থনীতিতে নগর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, জাতীয় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ নগরাঞ্চল থেকে আসে। অথচ দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ এসব এলাকায় বসবাস করলেও দ্রুত নগরায়ণের কারণে আবাসন, গণপরিবহন, পানি, স্যানিটেশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশের ওপর চাপ বাড়ছে।

এর সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন, সামাজিক বৈষম্য এবং জলবায়ুজনিত অভিবাসনের মতো সমস্যাও নগরজীবনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সরকার সবার জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর কাঠামো গড়ে তুলতে কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, নাগরিকদের নিরাপদ পানি, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, সাশ্রয়ী শিক্ষা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, আধুনিক গণপরিবহন ও সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এসব সুবিধাকে তিনি নাগরিকদের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন।

নগর নীতিমালা বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকার, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বেসরকারি খাত, গবেষক এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন মাহ্দী আমিন।

তিনি বলেন, নগরের সমস্যাগুলো প্রশাসনিক সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাই শুধু কেন্দ্র থেকে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নদী-নালা, খাল-বিল ও সবুজ এলাকা সংরক্ষণের আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, এ ধরনের উদ্যোগ জলাবদ্ধতা ও অতিরিক্ত তাপদাহ মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নগর ব্যবস্থাপনায় ব্যবহার করা হলেও এগুলোকে মূল লক্ষ্য নয়, বরং নাগরিকসেবা উন্নয়নের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রযুক্তিনির্ভরতার পাশাপাশি শহরকে প্রকৃত অর্থে মানুষের বসবাসের উপযোগী করে তোলার ওপর জোর দেন মাহ্দী আমিন।

দীর্ঘ সময়ের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা দ্রুত পরিবর্তন করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার দৃঢ়। সব অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে নগর সমস্যার সমাধানে সরকার কাজ করে যাবে।

তিনি আরও বলেন, আজকের পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্তই ভবিষ্যতের বাংলাদেশের নগরগুলোর চেহারা নির্ধারণ করবে।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, ইউএনডিপি বাংলাদেশের ডেপুটি আবাসিক প্রতিনিধি সোনালী দয়ারত্নেসহ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী, গবেষক, নগর পরিকল্পনাবিদ ও সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজনটি স্থানীয় সরকার বিভাগ, ইউএনডিপি বাংলাদেশ এবং যুক্তরাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ