সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি ভাতা অর্ধেক করার উদ্যোগ
অর্থনৈতিক চাপ, রাজস্ব ঘাটতি ও মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় সরকারি ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণে কেনা গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানি বাবদ মাসিক ভাতা অর্ধেক করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রস্তাবটি কার্যকর হলে বর্তমানে মাসে ৫০ হাজার টাকা পাওয়া কর্মকর্তারা এই খাতে ২৫ হাজার টাকা করে পাবেন।
সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। চিঠিটি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিভাগেও পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, সীমিত সম্পদের কার্যকর ব্যবহার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারি ব্যয়ে আরও কৃচ্ছ্রসাধনের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে সুদমুক্ত গাড়ি ঋণ নেওয়া প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মোটরযান রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ দেওয়া আর্থিক সহায়তা কমানোর বিষয়টি পরীক্ষা করা যেতে পারে।
এ প্রেক্ষাপটে মোটরযান রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় মাসিক ৫০ হাজার টাকার পরিবর্তে ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে।
তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাবেক এক কর্মকর্তা মনে করেন, বর্তমান বাজারদরে ২৫ হাজার টাকায় একটি গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানি ব্যয় নির্বাহ করা কঠিন হতে পারে। একই সঙ্গে সুদমুক্ত ঋণের অর্থ অন্য খাতে ব্যবহার বা গাড়ি ভাড়া দিয়ে অতিরিক্ত আয় করার অভিযোগও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মত দেন তিনি।
অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষায় সরকারি উচ্চপর্যায়ের ব্যয় কমানোর উদ্যোগ ইতিবাচক। তবে শুধু গাড়ি ভাতা কমিয়ে অর্থনৈতিক সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে না।
তার মতে, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা, প্রকল্পের অতিরিক্ত ব্যয়, বড় অবকাঠামো প্রকল্পে অপচয় এবং কর ফাঁকি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরেও সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে একাধিক নির্দেশনা জারি করেছে অর্থ বিভাগ। এসব নির্দেশনায় নতুন গাড়ি কেনা, বিদেশ সফর, ভূমি অধিগ্রহণ এবং নতুন ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় সীমিত বা স্থগিত রাখার কথা বলা হয়েছে।
সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানির পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটেও এসব বিধিনিষেধ কার্যকর হবে।
মন্তব্যসমূহ