মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের জেরে রাজশাহী থেকে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন পরিবহন শ্রমিকেরা। মঙ্গলবার সকাল থেকে নওদাপাড়া ও শিরোইল বাস টার্মিনাল থেকে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি।
রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল ইসলাম জানান, ইউনিয়নের নির্বাচন পরিচালনার জন্য কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার বিকেলে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রশাসন, বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিকনেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে বাস মালিক সমিতির একজন প্রতিনিধি রাখার প্রস্তাব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক ও হট্টগোল শুরু হয়। একপর্যায়ে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়।
বৈঠক শেষে শ্রমিকদের একটি অংশ শিরোইল বাস টার্মিনালে ফিরে নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের দাবিতে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেয়। তবে বাইরে থাকা বাসগুলোকে রাজশাহীতে ফেরার এবং অন্য জেলার বাসগুলোকে রাজশাহী ছাড়ার জন্য মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল।
সকাল থেকে কর্মবিরতি শুরু হওয়ায় রাজশাহী থেকে ঢাকা ও বিভিন্ন আন্তজেলা রুটে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। অধিকাংশ টিকিট কাউন্টার খোলা থাকলেও বাস চলাচল কখন স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পাঁচ সদস্যের একটি নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে জেলা প্রশাসন, শ্রম অধিদপ্তর, রাজশাহী মহানগর পুলিশ ও শ্রমিক ফেডারেশনের প্রতিনিধি রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়।
তবে কমিটিতে বাস মালিক সমিতির প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য এরশাদ আলী পল্টু। এ নিয়ে বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলালের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়।
এরশাদ আলী পল্টু বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি পূরণ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।
আকস্মিকভাবে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢাকাসহ বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা দুর্ভোগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
মন্তব্যসমূহ