ইরানে কয়েক দফা জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান শেষে ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহবাহী কফিন ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফে পৌঁছেছে। সেখানে বড় পরিসরে জানাজা ও শোকমিছিলের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ইরাকি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর খামেনির মরদেহবাহী কফিন গ্রহণ করেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি এবং দেশটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।
আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার পর জানাজা ও জনসাধারণের অংশগ্রহণে শোকমিছিলের প্রস্তুতি শুরু হয়। বুধবার নাজাফে বড় পরিসরের শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
শিয়া মুসলিমদের কাছে নাজাফ অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় নগরী। এখানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর চাচাতো ভাই ও জামাতা ইমাম আলী (রা.)-এর মাজার অবস্থিত। এ কারণে খামেনির মরদেহ নাজাফে নেওয়াকে ধর্মীয় ও প্রতীকীভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় খামেনি নিহত হন। এরপর ইরানে কয়েক দফা জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেই কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় তার মরদেহ ইরাকের নাজাফে নেওয়া হয়েছে।
জানাজা ও শোকানুষ্ঠানে অংশ নিতে নাজাফে পৌঁছেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান ইরাকের রাজনৈতিক নেতা, শিয়া ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
পরবর্তী কর্মসূচির অংশ হিসেবে খামেনির মরদেহবাহী কফিন শহরজুড়ে জনশোক কর্মসূচিতে নেওয়া হবে। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি রয়েছে।
গত শুক্রবার থেকে ইরানে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় খামেনির জানাজা ও শোক র্যালি শুরু হয়। প্রায় চার দশক ধরে ইরানের নেতৃত্ব দেওয়া এই নেতার মৃত্যু ঘিরে আয়োজিত শোকানুষ্ঠানগুলোকে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতার বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
সূত্র: ইরাকি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন
মন্তব্যসমূহ