পশ্চিমবঙ্গের বারুইপুরে ১২ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ ঘিরে সহিংসতার পর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, তাকে বারুইপুরে যেতে বাধা দিতে কার্যত গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে।
রোববার (৫ জুলাই) দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ওই শিশুর ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনাও ঘটে।
একই দিন সন্ধ্যায় কলকাতার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের বাইরে পুলিশ সদস্যদের অবস্থান ও টহল দিতে দেখা যায়। পরে মমতা দাবি করেন, তিনি বারুইপুরে গিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাকে বের হতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বারুইপুরের ঘটনা ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। মানুষ আর সহ্য করতে পারছে না। তার বাড়ির বাইরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে পুলিশ সরাসরি তাকে গৃহবন্দী করার কথা জানায়নি বলেও জানান সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রী।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও একই অভিযোগ করা হয়েছে। দলটির দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারুইপুরে যেতে চাইলে তার বাসভবনের বাইরে পুলিশ মোতায়েন ও ব্যারিকেড বসানো হয়, যাতে তিনি বের হতে না পারেন। তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তিনি ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং দ্রুত ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
তবে প্রশাসন বা পুলিশের পক্ষ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহবন্দী করার কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি। পুলিশও এ অভিযোগ নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে বারুইপুরের ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের জন্য এটিকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজ্য সরকার জানিয়েছে, ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারের সংখ্যাও বেড়েছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
মন্তব্যসমূহ