ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

তাপপ্রবাহের পর দাবানলে পুড়ছে দক্ষিণ ইউরোপ

তাপপ্রবাহের পর দাবানলে পুড়ছে দক্ষিণ ইউরোপ
দক্ষিণ ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ দাবানল। ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

তীব্র গরমের পর এবার ভয়াবহ দাবানলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দক্ষিণ ইউরোপ। ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল ও গ্রিসের বিস্তীর্ণ বনভূমি আগুনে পুড়ছে। কোথাও হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, কোথাও বন্ধ রাখতে হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও পর্যটন এলাকা।

দক্ষিণ ইউরোপের চার দেশে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার হেক্টর বন ও প্রাকৃতিক এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কয়েক হাজার দমকলকর্মী, শত শত যানবাহন ও একাধিক উড়োজাহাজ কাজ করছে। তবে প্রবল বাতাস ও নতুন তাপপ্রবাহের কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আবহাওয়াবিদেরা।

সবচেয়ে নাজুক পরিস্থিতি ফ্রান্সের স্পেন সীমান্তঘেঁষা পিরেনিজ অঞ্চলে। সেখানে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া দাবানলের কারণে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৭০০ দমকলকর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে অভিযান কঠিন হয়ে পড়েছে।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যরে নুনেজ জানিয়েছেন, সোমবার সকালে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বর্তমানে দেশটির পাঁচটি প্রশাসনিক এলাকায় দাবানল সক্রিয় রয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি মৌসুমে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমির পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য খুব কম সময় পাওয়া গেছে। মুহূর্তের মধ্যে চারদিকে ধোঁয়া ও আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় আতঙ্ক দেখা দেয়।

স্পেনেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। কাতালোনিয়ার সংরক্ষিত বনাঞ্চল লেস গাভারেসের বড় অংশ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে কাস্তেলন প্রদেশের সিয়েরা দে এস্পাদান জাতীয় উদ্যানে দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় পাঁচ শতাধিক মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

পর্তুগালের মধ্যাঞ্চলের ভউজিলা এলাকায় কয়েক দিন ধরে জ্বলতে থাকা দাবানলে প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে দেশটির পাশাপাশি স্পেন ও ইতালি সহায়তা পাঠিয়েছে। জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, আগুনের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে এলেও কিছু এলাকায় এখনও ঝুঁকি রয়ে গেছে।

গ্রিসেও দাবানলের বিস্তার অব্যাহত রয়েছে। উত্তরাঞ্চলের থেসালোনিকিতে বনের আগুন ছড়িয়ে দুটি কারখানা পুড়ে গেছে। এর একটি ছিল প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার কারখানা। বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় আশপাশের কয়েকটি এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজধানী এথেন্সের পশ্চিমেও নতুন একটি বড় দাবানল নিয়ন্ত্রণে শতাধিক দমকলকর্মী ও উড়োজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে।

দাবানলের প্রভাব পড়েছে বিশ্বের জনপ্রিয় সাইক্লিং প্রতিযোগিতা ট্যুর ডি ফ্রান্সের তৃতীয় ধাপেও। নিরাপত্তার কারণে ফিনিশিং লাইনের কাছাকাছি দর্শকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ওই এলাকায় কেবল প্রতিযোগী ও জরুরি সেবার যানবাহন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

জলবায়ুবিষয়ক গবেষকেরা বলছেন, সাম্প্রতিক তীব্র তাপপ্রবাহ ও দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়া দাবানলের ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। চলতি সপ্তাহে দক্ষিণ ইউরোপের কয়েকটি অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপে এমন চরম আবহাওয়ার ঘটনা ক্রমেই ঘন ঘন দেখা দিচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স

ট্যাগ : ইউরোপ দাবানল

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬


তাপপ্রবাহের পর দাবানলে পুড়ছে দক্ষিণ ইউরোপ

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

তীব্র গরমের পর এবার ভয়াবহ দাবানলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দক্ষিণ ইউরোপ। ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল ও গ্রিসের বিস্তীর্ণ বনভূমি আগুনে পুড়ছে। কোথাও হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, কোথাও বন্ধ রাখতে হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও পর্যটন এলাকা।

দক্ষিণ ইউরোপের চার দেশে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার হেক্টর বন ও প্রাকৃতিক এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কয়েক হাজার দমকলকর্মী, শত শত যানবাহন ও একাধিক উড়োজাহাজ কাজ করছে। তবে প্রবল বাতাস ও নতুন তাপপ্রবাহের কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আবহাওয়াবিদেরা।

সবচেয়ে নাজুক পরিস্থিতি ফ্রান্সের স্পেন সীমান্তঘেঁষা পিরেনিজ অঞ্চলে। সেখানে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া দাবানলের কারণে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৭০০ দমকলকর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে অভিযান কঠিন হয়ে পড়েছে।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যরে নুনেজ জানিয়েছেন, সোমবার সকালে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বর্তমানে দেশটির পাঁচটি প্রশাসনিক এলাকায় দাবানল সক্রিয় রয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি মৌসুমে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমির পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য খুব কম সময় পাওয়া গেছে। মুহূর্তের মধ্যে চারদিকে ধোঁয়া ও আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় আতঙ্ক দেখা দেয়।

স্পেনেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। কাতালোনিয়ার সংরক্ষিত বনাঞ্চল লেস গাভারেসের বড় অংশ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে কাস্তেলন প্রদেশের সিয়েরা দে এস্পাদান জাতীয় উদ্যানে দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় পাঁচ শতাধিক মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

পর্তুগালের মধ্যাঞ্চলের ভউজিলা এলাকায় কয়েক দিন ধরে জ্বলতে থাকা দাবানলে প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে দেশটির পাশাপাশি স্পেন ও ইতালি সহায়তা পাঠিয়েছে। জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, আগুনের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে এলেও কিছু এলাকায় এখনও ঝুঁকি রয়ে গেছে।

গ্রিসেও দাবানলের বিস্তার অব্যাহত রয়েছে। উত্তরাঞ্চলের থেসালোনিকিতে বনের আগুন ছড়িয়ে দুটি কারখানা পুড়ে গেছে। এর একটি ছিল প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার কারখানা। বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় আশপাশের কয়েকটি এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজধানী এথেন্সের পশ্চিমেও নতুন একটি বড় দাবানল নিয়ন্ত্রণে শতাধিক দমকলকর্মী ও উড়োজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে।

দাবানলের প্রভাব পড়েছে বিশ্বের জনপ্রিয় সাইক্লিং প্রতিযোগিতা ট্যুর ডি ফ্রান্সের তৃতীয় ধাপেও। নিরাপত্তার কারণে ফিনিশিং লাইনের কাছাকাছি দর্শকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ওই এলাকায় কেবল প্রতিযোগী ও জরুরি সেবার যানবাহন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

জলবায়ুবিষয়ক গবেষকেরা বলছেন, সাম্প্রতিক তীব্র তাপপ্রবাহ ও দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়া দাবানলের ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। চলতি সপ্তাহে দক্ষিণ ইউরোপের কয়েকটি অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপে এমন চরম আবহাওয়ার ঘটনা ক্রমেই ঘন ঘন দেখা দিচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ