গাজায় নিজেদের নির্বাহী প্রশাসনিক সংস্থা ‘গভর্নমেন্ট ফলো-আপ কমিটি’ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস। প্রায় দুই দশক ধরে গাজা উপত্যকার প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় এই কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল। হামাস ২০০৭ সাল থেকে গাজা শাসন করছে।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে হামাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে গাজার দায়িত্ব একটি নির্দলীয় বিশেষজ্ঞ কমিটির হাতে তুলে দেওয়ার পথ তৈরি হবে। বিভিন্ন ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত ওই কমিটি গাজার দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হামাসের এক কর্মকর্তা বলেন, গাজার সরকারি কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’ আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত ঐকমত্যের ভিত্তিতে একজন ব্যক্তিকে অন্তর্বর্তী দায়িত্ব দেওয়া হবে।
টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাস গাজার শাসন কাঠামো ভেঙে দিয়ে ফিলিস্তিনি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটির জন্য জায়গা করে দিতে যাচ্ছে। তবে কমিটির সদস্যদের গাজায় প্রবেশ এবং কার্যকরভাবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রক্রিয়া এখনো জটিলতার মুখে রয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার আওতায় গাজার প্রশাসন একটি নির্দলীয় বিশেষজ্ঞ কমিটির হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা এগোয়। ওই প্রস্তাব অনুযায়ী, গাজার পুনর্গঠন ও দৈনন্দিন সেবা পরিচালনার জন্য ফিলিস্তিনি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের কথা বলা হয়।
মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজার জন্য প্রস্তাবিত নতুন প্রশাসনিক কমিটিতে ১৫ জন ফিলিস্তিনি বিশেষজ্ঞ থাকার কথা। তাদের কাজ হবে যুদ্ধবিধ্বস্ত উপত্যকাটিতে বেসামরিক প্রশাসন, সেবা কার্যক্রম এবং পুনর্গঠন প্রক্রিয়া পরিচালনা করা।
তবে গাজা প্রশাসন হস্তান্তরের বিষয়টি এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ, ইসরাইলের অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক তদারকি কাঠামো নিয়ে নানা জটিলতা রয়ে গেছে। ফলে নতুন কমিটি কবে থেকে মাঠপর্যায়ে কার্যকরভাবে দায়িত্ব নিতে পারবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, হামাসের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে গাজার প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার পুনর্গঠন, মানবিক সহায়তা সমন্বয় এবং নাগরিক সেবা চালু রাখার ক্ষেত্রে নতুন কমিটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সূত্র: এএফপি
মন্তব্যসমূহ