ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, বিশ্বের যেসব দেশ ইসরায়েলকে বেশি সমর্থন করে, তাদের মধ্যে ভারত অন্যতম। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের একটি মন্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করে বলেন, ইসরায়েলের শক্তিশালী মিত্র শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, আরও অনেক দেশ তাদের পাশে রয়েছে।
রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনকে ইসরায়েলের জন্য বড় সহায়ক হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তবে তার ভাষ্য, এর অর্থ এই নয় যে ইসরায়েলের আর কোনো শক্তিশালী বন্ধু নেই।
ভারতের প্রসঙ্গ তুলে নেতানিয়াহু বলেন, ভারত একটি বিশাল দেশ এবং সেখানকার মানুষের কাছ থেকে ইসরায়েল ব্যাপক সমর্থন পায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভারতীয় নাগরিকদের কাছ থেকে সমর্থনের অসংখ্য বার্তা পাওয়ার কথা জানান তিনি।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু অংশে ইসরায়েলের সমালোচনা থাকলেও বাস্তবে বহু দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে।
নেতানিয়াহুর দাবি, বিভিন্ন দেশের নেতারা ব্যক্তিগতভাবে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং নিরাপত্তা, সামরিক কৌশল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার নিরাপত্তার মতো খাতে ইসরায়েলের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা চান।
তিনি বলেন, অনেক নেতা নিজ দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে প্রকাশ্যে সব সময় অবস্থান জানাতে পারেন না। তবে ব্যক্তিগতভাবে তারা ইসরায়েলের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।
প্রযুক্তি খাতেও ইসরায়েলের অবস্থান তুলে ধরে নেতানিয়াহু বলেন, সাইবার প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে ইসরায়েল বিশ্বের অন্যতম অগ্রসর দেশ। এ কারণেই অনেক দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায়।
জেডি ভ্যান্সের সাম্প্রতিক মন্তব্যের জবাব দিতেই নেতানিয়াহু এসব কথা বলেন। ভ্যান্স বলেছিলেন, ইসরায়েলের উচিত তাদের প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে আক্রমণাত্মক অবস্থান না নেওয়া। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা নিয়ে ইসরায়েলের কিছু নেতার অসন্তোষ প্রকাশের পর তিনি এ মন্তব্য করেছিলেন।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছেন। ট্রাম্পও জানিয়েছেন, টেলিফোনে আলোচনার পর দুই নেতা শিগগিরই মুখোমুখি বৈঠকে বসতে সম্মত হয়েছেন।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাম্পের ব্যস্ত সফরসূচির কারণে বৈঠকটি আগামী সপ্তাহে হতে পারে। ইরান, লেবানন ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে দুই নেতার মধ্যে কিছু মতপার্থক্যের খবর থাকলেও তারা ওয়াশিংটনে বৈঠকে বসতে আগ্রহী।
সূত্র: ফক্স নিউজ
মন্তব্যসমূহ